কূটনৈতিক একাকীত্ব কাটানোর মরিয়া চেষ্টা মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সামরিক উর্দি ছেড়ে বেসামরিক রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে বসার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং

2026-05-30T16:59:09+00:00
2026-05-30T16:59:25+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কূটনৈতিক একাকীত্ব কাটানোর মরিয়া চেষ্টা মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম  আপডেট: ৩০.০৫.২০২৬ ৪:৫৯ পিএম
পাঁচ দিনের ভারত সফরে মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং। সংগৃহীত ছবি
সামরিক উর্দি ছেড়ে বেসামরিক রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে বসার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং। 

শনিবার (৩০ মে) রাজধানী নেইপিদো থেকে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ফেরানোর লক্ষ্যে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বৈশ্বিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা।

পাঁচ দিনের এই দীর্ঘ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। এছাড়া তিনি বিহারের ঐতিহাসিক তীর্থস্থান বুদ্ধগয়া এবং বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাই সফর করবেন। 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার রাজ্য— মিজোরাম, মণিপুর, অরুণাচল এবং নাগাল্যান্ডের সঙ্গে মিয়ানমারের প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ কৌশলগত সীমান্ত রয়েছে। এক সময় দিল্লির সঙ্গে নেইপিদোর গভীর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থাকলেও ২০২১ সালের রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাতে বড় ধরনের ছেদ পড়ে। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লেইংয়ের নেতৃত্বেই অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল দেশটির সামরিক বাহিনী। 

ক্ষমতায় বসার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি জুড়ে মিয়ানমারে একটি বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে সামরিক জান্তা। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক সমর্থিত দল জয়ী হলে গত ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মিন অং হ্লেইং। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই কার্যত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছিল মিয়ানমার। গণতন্ত্রের বিনাশ এবং সাধারণ জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর চরম দমনপীড়নের কারণে শুধু পশ্চিমা বিশ্বই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তিশালী জোট ‘আসিয়ান’ থেকেও কোণঠাসা হয়ে পড়ে দেশটি। 

বিগত পাঁচ বছর ধরে সু চিসহ হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী এখনও কারাবন্দি। জান্তাবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে, যা এখনও বলবৎ। এমনকি আসিয়ানের শীর্ষ বৈঠকগুলোতেও মিয়ানমারের জান্তা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এই চরম রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যেও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সুতাটি পুরোপুরি ছিঁড়ে যায়নি। দীর্ঘদিনের এই আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার বেড়াজাল ভাঙতেই মূলত প্রেসিডেন্ট হ্লেইংয়ের এই ভারত সফর। 


আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হোর্সি রয়টার্সকে বলেন, ‘বেসামরিক পোশাক ধারণের পর থেকেই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের বিচ্ছিন্ন দশা কাটানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই ভারত সফরের পেছনে তাঁর দুটি সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে। প্রথমত, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো; এবং দ্বিতীয়ত, দিল্লির সঙ্গে এই মিত্রতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসিয়ান জোটের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।’ 

এই সফরে ভারতের সমর্থন মিললে আসিয়ানের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে বরফ গলানোর পথ অনেকটাই মসৃণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

সূত্র : রয়টার্স

সময়ের আলো/জেডি 




  বিষয়:   কূটনৈতিক  মিয়ানমার  প্রেসিডেন্ট  ভারত সফর 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: