রাশিয়ার অভ্যন্তরে একাধিক অঞ্চলের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে বড় ধরনের সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের তাগানরোগ বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার, ফুয়েল ট্যাংক ও প্রশাসনিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ড্রোন হামলার মুখে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান ‘ভলগোগ্রাদ তেল শোধনাগার’ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৩০ মে) সকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভোররাতেই রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিওসার রাশিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ম্যাক্স’-এ এই হামলার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ড্রোন আঘাত হানার পর তাগানরোগ বন্দরে একটি ট্যাঙ্কার ও ফুয়েল ট্যাংকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাগানরোগ শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে ড্রোন আছড়ে পড়ায় দুজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
গভর্নর আরও জানান, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী রাতভর তাগানরোগ শহরসহ চেরতকোভস্কি, মাতভেয়েভো-কুরগানস্কি এবং নেকলিনোভস্কি জেলায় একাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। এছাড়া গ্রেকোভো-তিমোফিয়েভকা গ্রামে ড্রোনের আঘাতে একটি আবাসিক বাড়ির গ্যাস পাইপলাইনে আগুন ধরে গেলে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তাগানরোগ ছাড়াও ইউক্রেনীয় ড্রোনের বড় ধরনের আঘাত লেগেছে ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের আরমাভির তেল স্থাপনায়। অন্যদিকে ইয়ারোস্লাভল শহরের কাছে অবস্থিত রাশিয়ার বিশাল জ্বালানি ট্যাংকগুলোতেও ড্রোন হামলার পর আগুন জ্বলছে। উপর্যুপরি ড্রোন হামলার কারণে ভলগোগ্রাদ তেল শোধনাগারের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির ও বন্ধ হয়ে গেছে, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় ধাক্কা। উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসের শেষেও তাগানরোগে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছিলেন।
এদিকে, ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে রাশিয়াও রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ৯০টি ড্রোন এবং দুটি ‘ইস্কান্দার-এম/কেএন-২৩’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রাশিয়ার এই বিমান হামলায় ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৩,০০০ বাসিন্দা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন ও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া সুমি অঞ্চলেও ব্যাপক ঘরবাড়ি, যানবাহন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল শুক্রবার এক জরুরি টেলিগ্রাম বার্তায় দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, আমাদের গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর একটি নতুন ও বিশাল মাত্রার স্থল ও আকাশ আক্রমণের (লার্জ-স্কেল অ্যাসাল্ট) প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি অতি দ্রুত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের তাগিদ দেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ইতিমধ্যে কিয়েভে অবস্থানরত সমস্ত বিদেশী নাগরিকদের অবিলম্বে রাজধানী ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, কিয়েভের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা ইউক্রেনীয় সামরিক ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা খুব শীঘ্রই ‘পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক বিমান হামলা’ (সিস্টেমেটিক স্ট্রাইক) শুরু করতে যাচ্ছে।
/কহু