ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের সাফারি পার্কে প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পার্কটি এখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
ঈদের ছুটির শুরু থেকেই পার্কে দেখা যাচ্ছে মানুষের ঢল। সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে হাজার হাজার মানুষ এখানে ভিড় করছেন।
পার্কের প্রধান আকর্ষণ ‘কোর সাফারি’তে বিশেষ বেষ্টনীবদ্ধ যানবাহনে চড়ে দর্শনার্থীরা উন্মুক্ত পরিবেশে জেব্রা, নীলগাই, সাম্বার হরিণ, মায়া হরিণ, এল্যান্ড, বাঘ, সিংহ ও ভাল্লুকসহ নানা প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাচ্ছেন। পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতু, লেকের রঙিন মাছ, কুমির, উটপাখি, ইমু ও অজগর সাপও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
পার্কে ঘুরতে আসা টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বাসিন্দা শহিদুল্লাহ বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সময় দিতে পারি না। ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছি, সবাই খুব আনন্দ পাচ্ছে।’
ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী মেহেনুর হাসান মীম বলেন, ‘কোর সাফারিতে প্রাণীগুলো কাছ থেকে দেখে খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বাঘ, সিংহ ও হরিণ দেখে আমরা অনেক আনন্দ পেয়েছি।’
তবে কিছু দর্শনার্থী অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। দর্শনার্থী সায়েবা সুলতানা জানান, পার্কে পর্যাপ্ত বিশ্রামস্থল নেই এবং ভেতরের খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তারেক রহমান জানান, ঈদের সময় দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঈদের দিন প্রায় ৩ হাজার, দ্বিতীয় দিনে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি এবং তৃতীয় দিনে প্রায় ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
/এসএকে