ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরলো প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে দীর্ঘ দুই দশক পর ফাইনালে উঠেও আরও একবার রানার্সআপ হওয়ার হতাশায় পুড়তে হলো আর্সেনালকে।
গত আসরে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া পিএসজিকে এবার শিরোপা ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। তবে শেষ হাসি হেসেছে পিএসজিই। ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন নামকরণের পর রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুটি শিরোপা জেতার অনন্য কীর্তি গড়লো প্যারিসের ক্লাবটি। সব মিলিয়ে ইউরোপীয় কাপের ইতিহাসে তারা দশম দল হিসেবে এই গৌরব অর্জন করলো।
টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শুরুতেই লিড নিয়েছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী আর্সেনাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কিনহোসের একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স আর্সেনাল উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে চলে যায় কাই হাভার্টজের কাছে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক নিয়ন্ত্রণে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত এক শট এই জার্মান ফরোয়ার্ডের। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা নিজেদের সর্বশেষ ফাইনালের মতোই শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় পিএসজি। প্রায় এক ঘণ্টা আর্সেনাল পিএসজিকে আটকে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙে। ডি-বক্সে পিএসজির উইঙ্গার খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করে বসেন আর্সেনালের ক্রিসথিয়ান মস্কেরা। ভিএআর যাচাইয়ের পর পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি স্পট থেকে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান উসমান দেম্বেলে।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও সমতা না ভাঙায় শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়ায়।
শুটআউটের রোমাঞ্চে পিএসজির হয়ে প্রথম শটে গোল করেন গন্সালো রামোস। আর্সেনালের হয়েও প্রথম শটে লক্ষ্যভেদ করেন গিওকেরেস। পিএসজি দ্বিতীয় শটেও সফল হয়। তবে আর্সেনালের এবেরেচি এজে বল পোস্টের বাইরে মারলে ব্যাকফুটে চলে যায় গানাররা। এরপর পিএসজির মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আর্সেনালকে ম্যাচে ফেরান গোলরক্ষক রায়া।
পরের শটগুলোতে আর্সেনালের ডেকলান রাইস ও মার্তিনেলি এবং পিএসজির আশরাফ হাকিমি ও লুকাস বেরালদি গোল করলে রোমাঞ্চ বজায় থাকে। তবে আর্সেনালের শেষ শটে মাগালহায়েস ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মারলে নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির টানা দ্বিতীয় শিরোপা। ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের খরা কাটালেও, প্রথম ইউরোপীয় রাজত্ব পাওয়ার অপেক্ষা আরও বাড়লো মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের।
সময়ের আলো/জেডি