লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবারও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় একই পরিবারের নয় সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু থাকায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর সাইদার কাছাকাছি আদলুন এলাকায় একটি বসতবাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় ভবনটিতে একটি সিরীয় শরণার্থী পরিবার অবস্থান করছিল। বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বাসিন্দারা।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষে যে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো একই পরিবারের সদস্যদের। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। চলমান সমঝোতার আওতায় সংঘাত কমে আসার কথা থাকলেও বাস্তবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা থামেনি। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো ও অবস্থানকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে এসব হামলার বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নারী ও শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা।
অন্যদিকে সীমান্তের অপর প্রান্তেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরছে না।
এএডি/