বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’-এর সঙ্গে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। প্রতিযোগিতার নীতি, পরিচালনা ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী আসরে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটির জাতীয় আয়োজন কর্তৃপক্ষ।
১৯৫২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আসছিল ফ্রান্স। তবে ২০২৬ সালের আসরে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত দেশটির সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো, যখন ফ্রান্স স্বেচ্ছায় এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।
এক বিবৃতিতে মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন, সাংগঠনিক অসঙ্গতি এবং পরিচালনাগত প্রশ্ন তাদের উদ্বিগ্ন করেছে। দেশের মূল্যবোধ, পরিচয় এবং নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মিস ফ্রান্স সংস্থার সভাপতি ফ্রেদেরিক গিলবার্ট বলেন, ‘মিস ইউনিভার্স’ বরাবরই ফ্রান্সকে আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। তবে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং নিজেদের আদর্শ ও বিশ্বাসকে অক্ষুণ্ণ রাখাও। সেই বিবেচনা থেকেই আমরা আপাতত এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আরও পড়ুন
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর কাঠামো ও কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে এবং তা ফ্রান্সের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে পুনরায় অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে ২০২৬ সালের মিস ফ্রান্স বিজয়ী হিনাউপোকো দেভেজেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক কিছু আয়োজনের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফ্রান্সের এমন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দেশটি ‘মিস ইউনিভার্স’-এর অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল অংশগ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত ছিল।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স’ কর্তৃপক্ষও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তারা জানিয়েছে, ফ্রান্সের জন্য নতুন একটি কাঠামো ও প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা সরাসরি সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
সংস্থার দাবি, এই নতুন উদ্যোগ ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈশ্বিক অংশগ্রহণের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। একইসঙ্গে এটি ‘মিস ইউনিভার্স’ ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ইতিহাসে ফ্রান্স দুইবার শিরোপা জয় করেছে। ১৯৫৩ সালে ক্রিস্টিয়ান মার্তেল প্রথম ফরাসি হিসেবে এই মুকুট অর্জন করেন। এরপর ২০১৬ সালে আইরিস মিতেনারের হাত ধরে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে দেশটি।
এএডি/