ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের উল্লাসকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৩০ মে) চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে পরাজিত করে ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ আসরের শিরোপা ধরে রাখে পিএসজি। জয়ের পর হাজারো সমর্থক রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেমে উদযাপনে অংশ নেন।
রোববার বিকেলে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা জানাতে আইফেল টাওয়ারের কাছের শঁ দ্য মার্স এলাকায় বিপুল সংখ্যক সমর্থক জড়ো হন। তবে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি শনিবার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতায় প্যারিসে অন্তত ৫৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন দোকানপাট ভাঙচুর করে, একাধিক গাড়িতে আগুন দেয় এবং ভাড়ায় ব্যবহৃত সাইকেলের স্ট্যান্ডে অগ্নিসংযোগ করে। রাজধানীর বাইরে কয়েকটি শহরেও সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, এই অস্থিরতার মধ্যে এক তরুণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেন, ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডানপন্থী নেত্রী মারিন লে পেন কঠোর আইন-শৃঙ্খলা নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘শুধু ফ্রান্সেই একটি ফুটবল ক্লাবের জয় দাঙ্গার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
অন্যদিকে মধ্য-বামপন্থী রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসমান মনে করেন, এই সহিংসতা দেশের গভীর সামাজিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। তার ভাষায়, ‘ফ্রান্স এখন এমন এক চাপের মধ্যে রয়েছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত বছর পিএসজি প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পরও উদযাপনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেবারও দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
/ইউএমএইচ