লাওসের মধ্যাঞ্চলে বন্যার পানিতে প্লাবিত একটি গুহায় আটকে থাকা আরও দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। তবে ভারী বৃষ্টি এবং যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গুহার ভেতরে আটকে থাকা সাতজনের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফিনল্যান্ডের ডুবুরি মিক্কো পাসি জানান, রোববারের ভারী বৃষ্টিতে গুহার দ্বিতীয় কক্ষ পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। ফলে পানির স্তর কমানো না পর্যন্ত ডুবুরিরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে একটি পানি নিষ্কাশন পাম্পের বিকল হয়ে যাওয়া।
গত সপ্তাহে মধ্য লাওসের প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চল জাইসোমবুন প্রদেশের একটি গুহায় সাতজন ব্যক্তি স্বর্ণসহ মূল্যবান খনিজের সন্ধানে প্রবেশ করেছিলেন। পরে আকস্মিক বন্যার পানিতে গুহার বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা ভেতরে আটকা পড়েন। তবে একজন কোনোমতে বেরিয়ে এসে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
লাওস ও প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের উদ্ধারকর্মীরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। তাদের সঙ্গে ফিনল্যান্ড, মালয়েশিয়া, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ডুবুরিরাও যুক্ত রয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, তারা গুহার ভেতরে ২০০ মিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে মোট পাঁচটি কক্ষের সন্ধান পেয়েছেন। ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া পাঁচজনকে পঞ্চম কক্ষ থেকে পাওয়া যায়।
মালয়েশিয়ার ডুবুরি লি কিয়ান লি জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুহার আরও গভীর অংশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এখন বাকি দুইজনের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
ফিনিশ ডুবুরি মিক্কো পাসির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন পঞ্চম কক্ষের ভেতরে একটি সরু ফাটল রয়েছে, যা গুহার আরও গভীর অংশে যাওয়ার পথ হতে পারে। উদ্ধারকারীদের ধারণা, নিখোঁজ দুই ব্যক্তি সেখানেই অবস্থান করতে পারেন।
উদ্ধার হওয়া পাঁচ ব্যক্তির নাম খামলা, মুয়েদ, ই, ইং এবং লায়েন। তাদের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় গত বুধবার। প্রথম ব্যক্তিকে শুক্রবার একজন বিশেষজ্ঞ ডুবুরির সহায়তায় সরু জলমগ্ন পথ পেরিয়ে বাইরে আনা হয়। পরে শনিবার পানির স্তর কিছুটা কমে গেলে বাকি চারজন নিজেরাই হেঁটে গুহা থেকে বের হতে সক্ষম হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, গুহা থেকে একে একে বেরিয়ে আসার সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ ক্লান্তিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, আর উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা আনন্দে তাদের জড়িয়ে ধরেন। পরে তাদের অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে ও বিশেষ তাপরোধী কম্বলে মুড়িয়ে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বর্তমানে উদ্ধারকারীদের আশা, গুহা থেকে পাওয়া নতুন তথ্য এবং পানির স্তর কিছুটা কমলে নিখোঁজ দুই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে তাদেরও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
/ইউএমএইচ