ইরান সরকার কয়েক মাস ধরে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর দেশে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করেছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনো ব্যাপক বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার সময় দেশটিতে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ধীরে ধীরে সীমিত আকারে পুনরায় চালু করা হয়।
বর্তমানে দেশটির সব অঞ্চলে স্বাভাবিক ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসেনি। অনেক ডাটা সেন্টার এখনো পুরোপুরি অনলাইনে ফেরেনি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট প্রোটোকল যেমন আইপিভি৬ ও এইচটিটিপি/৩ ব্লক করা আছে। কিছু ক্ষেত্রে ইউডিপি ট্রাফিকও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা ধীরগতির এবং অস্থিতিশীল ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপ এখনো বন্ধ বা সীমিতভাবে চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ওয়েজ। ফলে সাধারণ মানুষ পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে এখন একটি জটিল ‘ফিল্টারিং আর্কিটেকচার’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন স্তরে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিছু বিদেশি আইপি পুরোপুরি ব্লক না করে ‘গ্রে জোন’-এ রাখা হচ্ছে, যেখানে সংযোগ শুরু হলেও ডেটা সীমিত রাখা হয়। শুধু অনুমোদিত বা ‘হোয়াইটলিস্টেড’ ব্যবহারকারী ও সেবাগুলো তুলনামূলক ভালো গতি পাচ্ছে।
এছাড়া সরকার একটি স্তরভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের পেশা ও শ্রেণির ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার অ্যাক্সেস দেওয়া হয়। ‘ইন্টারনেট প্রো’ নামে একটি উচ্চমূল্যের প্যাকেজও চালু করা হয়েছিল, যা সাধারণ প্যাকেজের তুলনায় বেশি দামে কিছুটা উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা দিত, তবে পরে এর বিজ্ঞাপন ও নিবন্ধন পেজ সরিয়ে ফেলা হয়।
এই পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু সংস্কারপন্থী গণমাধ্যম সরকারকে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করতে দেরি করার জন্য সমালোচনা করছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা আবার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ শিথিলের বিরোধিতা করছে। এমনকি কিছু আদালতের আদেশের কারণে পুনরায় সংযোগ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাধারণ ব্যবহারকারীরা বলছেন, বর্তমান অবস্থায় ইন্টারনেটকে প্রকৃত ইন্টারনেট বলা যায় না। অনেকেই বাধ্য হয়ে ভিপিএন ব্যবহার করছেন, যার ফলে একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার তৈরি হয়েছে। তবে এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রতারণা এবং ম্যালওয়্যার সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে গেছে।
/ইউএমএইচ