যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের লংভিউতে অবস্থিত ‘নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানি’র একটি কাগজ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৬ মে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ থাকা ৯ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার করতে সক্ষম হলে প্রাণহানির এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন— গিলবার্ট বার্নাল, টাইলার কোভিংটন, ব্র্যাডলি কোভিংটন, রবার্ট রব্ব উইলসন, ডেল মিলার, জ্যারেড অ্যামনস, ব্রেডন ফিঙ্কাস, ক্লিনটন সিজে ডোরান, জন ফোর্স, নরম্যান বার্লো এবং ডিলন মিলার।
গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৭টার দিকে কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ‘হোয়াইট লিকার’ নামের অত্যন্ত ক্ষারীয় ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক রাসায়নিক ভর্তি একটি বিশালাকার ট্যাংক আকস্মিকভাবে ফেটে গেলে এই চরম বিপর্যয় ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ গ্যালন ফুটন্ত রাসায়নিক পুরো কারখানা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১ জনের তাৎক্ষণিক মৃত্যু এবং রাসায়নিক দগ্ধসহ ৯ জন মারাত্মক আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয় এবং কারখানার ৯ জন কর্মী দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকেন।
লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারখানার শিফট পরিবর্তনের সময় অনেক কর্মী যখন একটি ব্রেক রুমে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। ট্যাংক ফেটে যাওয়ার পর চারপাশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় বিষাক্ত গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারীদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সব এলাকায় তল্লাশি চালানো সম্ভব ছিল না।
লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের চিফ ব্র্যাড হ্যানিগ এক সংবাদ সম্মেলনে শেষ নিখোঁজ কর্মীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে বলেন, উপচে পড়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক যাতে স্থানীয় জনপদের মূল খাবার পানির উৎসে কোনোভাবে মিশে না যায়, সেজন্য তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অন্য নর্দমায় ডাইভার্ট করতে হয়েছিল।
একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো রাসায়নিকমুক্ত করতে বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলোকে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ও জটিল রাসায়নিক প্রতিরোধ প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে। এই বিভীষিকাময় ঘটনাটিকে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারখানা থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিকের কিছু অংশ বিখ্যাত কলম্বিয়া নদী এবং কাছাকাছি কিছু নালায় গিয়ে পড়লেও তা শেষ পর্যন্ত মূল জনপদের খাবার পানির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি এবং বাতাসেও কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিষাক্ত দূষণ ছড়ায়নি।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জুস এবং দুধের কার্টন তৈরির জন্য ব্লিচড পেপারবোর্ড প্রস্তুতকারী স্বনামধন্য এই নিপ্পন ডাইনাওয়েভ কারখানায় এর আগেও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ম লঙ্ঘন এবং একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের মতো বেশ কিছু বিতর্কিত রেকর্ড রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান