চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের মানুষদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় চালু করা নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একসময় যে অ্যাম্বুলেন্স নদীপথের দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিত, সেটিই এখন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। শিগগির মেরামত করে চালুর দাবি জানিয়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট তৎকালীন সংসদ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটির উদ্বোধন করেন। উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় আসনের এই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটি পাঁকা ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করে চালু করা হয়। পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদকে। উদ্বোধনের পর প্রথম দিকে কয়েক মাস নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি চলাচল করলেও ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম কমে আসে। এক পর্যায়ে এটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই খোলা জায়গায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অ্যাম্বুলেন্সটির কাঠামো ও যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় মাদকসেবী ও অসাধু ব্যক্তিরা এর সাইরেন, সিট, নাট-বল্টুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। ফলে এটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি শিশুদের খেলাধুলার স্থান হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, চরাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় জরুরি সময়ে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তাই এটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে তারা।
পাঁকা ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর পর ছয়-সাত মাস ভালোই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কখনো পানিতে নামানো হয়নি। প্রায় চার বছর ধরে এটি এভাবেই পড়ে আছে। জিয়ারুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এটি মূলত রোগীদের ব্যবহারের জন্য চালু করা হলেও বাস্তবে খুব বেশি কাজে লাগানো হয়নি। কয়েক দিন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
এ বিষয়ে পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ জানান, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি বেশ কয়েক দিন চালু ছিল। কিন্তু জ্বালানি খরচ বেশি হওয়া ও জনবল না থাকায় নিয়মিত চালানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এর অবস্থা এখন খুবই খারাপ। মেরামত করতে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, চুরি হয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশের কারণে এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল। পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজারুল ইসলাম জানান, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এসএকে