লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান ও আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ইরান।
সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত অপরাধ ও যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগে তেহরানের প্রধান আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সব ধরনের সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক নথি আদান-প্রদান সম্পূর্ণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্তই ছিল লেবানন ইস্যু। কিন্তু মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সেই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে পুরোপুরি ভঙ্গ হয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া এই পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ইরানের সরকার কয়েকটি কঠোর শর্ত দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গাজা উপত্যকা ও লেবানন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং দক্ষিণ লেবাননের নতুন করে দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের দীর্ঘ দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর পর এই প্রথমবারের মতো অঞ্চলটিতে এত গভীরে অগ্রসর হয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে আজ সোমবার ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের বিমান হামলার আগে এলাকা ত্যাগের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করেছে, যা এই অঞ্চলে নতুন করে বড় যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা তাসনিম তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রতিরোধ মিত্ররা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীসহ অন্যান্য প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোকে একযোগে সক্রিয় করার বিষয়ে তেহরান এখন অত্যন্ত দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছে।
সময়ের আলো/টিএইচ