লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি। সোমবার (১ জুন) সম্প্রচারিত এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে এপ্রিলের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বেড়েছে। সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন। এতে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে চলমান সংঘাতে লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের দাবি, হিজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তবে বৈরুতে হামলার নির্দেশের পর ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার বলেন, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা, দেশটিতে সামরিক অভিযান এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। একটি ফ্রন্টে লঙ্ঘন মানে পুরো যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এর দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকেই নিতে হবে।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। তিনি বলেন, নৌ-অবরোধ এবং লেবাননে জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধ বৃদ্ধি এসবই যুদ্ধবিরতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল্য আছে, আর সেই মূল্য একসময় পরিশোধ করতে হয়।
এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে। এতে তিন মাস ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরাইলের ধারাবাহিক সামরিক কর্মকাণ্ড আলোচনা স্থগিতের অন্যতম প্রধান কারণ। যুদ্ধবিরতির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল লেবাননে হামলা বন্ধ করা, কিন্তু তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সব ধরনের সংলাপ ও খসড়া চুক্তি সংক্রান্ত বার্তা আদান-প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি অভিযান বন্ধ এবং লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের মতো দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না। ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কোনো কূটনৈতিক আলোচনাও হবে না।
এছাড়া তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ এর অন্তর্ভুক্ত ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলি পদক্ষেপের জবাবে আরও বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক ফ্রন্টে উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরবিএন