একদিকে জাতীয় দলের তারকারা অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতির ছন্দ খুঁজছেন, অন্যদিকে ডিপিএলের শীর্ষস্থান নিয়ে জমে উঠেছে লড়াই। ঈদের বিরতির পর মাঠে ফিরেই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও তাওহীদ হৃদয়।
অঙ্কনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে বড় জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড আর হৃদয়ের দারুণ শতকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। একই দিনে রানবন্যার আরেক ম্যাচে মাহফিজুল ইসলাম রবিনের অনবদ্য ইনিংসে নাটকীয় জয় পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
মঙ্গলবার বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে অষ্টম রাউন্ডের ম্যাচে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ১৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আবাহনী।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩১৫ রান তোলে দলটি। ইনিংসের প্রাণ ছিলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ৯৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি দলকে নিয়ে যান শক্তিশালী সংগ্রহে।
৩১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটামুটি করেছিল গুলশান। ওপেনিং জুটিতে ৪৫ রান যোগ করেন রহমতউল্লাহ আলী ও আলিফ ইমন। ইমন ১২ বলে ১৪ এবং রহমতউল্লাহ ২৫ বলে ৩০ রান করে ফিরলে ধসে পড়ে পুরো ব্যাটিং লাইনআপ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।
শেষে আবদুর রহিম ২১ বলে ২০ এবং আবির ২৫ বলে ১৫ রান করলেও পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারেননি। আবাহনীর হয়ে তিন উইকেট নেন নাইমুর রহমান নয়ন। দুটি করে উইকেট শিকার করেন রাকিবুল হাসান ও এস এম মেহেরব হোসেন।
মিরপুরে দিনের আরেক ম্যাচে ব্যাটিং প্রদর্শনী সাজায় মোহামেডান। তাওহীদ হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেনের অর্ধশতকে ভর করে তারা তোলে ৩৩৯ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অলআউট হয়ে যায় ২৩২ রানে। ফলে ১০৭ রানের বড় জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় মোহামেডান।
ম্যাচ শেষে সামনে থাকা অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়েও কথা বলেন হৃদয়। জাতীয় দলের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার বলেন, অবশ্যই ওদের বোলিং খুব ভালো ছিল। যেহেতু সামনেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আছে, মিরপুরে খেলা, এই মাঠেই খেলা হবে। সে কারণে চেষ্টা করেছি যতটুকু অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মিল রেখে খেলার, ওই সিরিজে কীভাবে খেলব, এই প্ল্যানটাই ছিল। সার্বিকভাবে আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিয়ে বাড়তি ভয় দেখছেন না হৃদয়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যেকটা টিমই বড়। অস্ট্রেলিয়া হয়তো বড় নাম, কিন্তু আমাদের মাঠে আমরাও বড় টিম এবং শেষ কিছু সিরিজে, আমরা খুব আধিপত্যপূর্ণ পারফরম্যান্স করছি দল হিসেবে।
অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। আর বড় স্কোর করতে গেলে সবসময় ওপরের দিক থেকে রান করতে হয়। যদি আমাদের নিয়মিত টপঅর্ডার থেকে রান না আসে, সেদিন মিডল অর্ডারের দায়িত্ব থাকে যতটুকু টিমকে কন্ট্রিবিউট করা যায়।
দিনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি হয় সিটি ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যে। ৩২৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ২ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় অগ্রণী ব্যাংক।
ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তার ১৪৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসই দলকে এনে দেয় স্মরণীয় জয়। ঈদের পর মাঠে ফিরেই ডিপিএলে দেখা গেল রান উৎসব। অঙ্কন, হৃদয় ও রবিনদের ব্যাটে জমে উঠেছে শিরোপার লড়াই।
/এসএকে