বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে নিজেদের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিল আলজেরিয়া। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও এই জয় বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রটারডামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আলজেরিয়া। ম্যাচের শেষ দিকে আনিস হজ মুসার অসাধারণ এক গোলই গড়ে দেয় পার্থক্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে নেদারল্যান্ডস। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে একাধিক সুযোগও তৈরি করে ডাচরা। তবে আলজেরিয়ার সংগঠিত রক্ষণ এবং কৌশলগত শৃঙ্খলার সামনে তারা বারবার বাধার মুখে পড়ে।
প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা বদলে যায়। আলজেরিয়া ধীরে ধীরে পাল্টা আক্রমণে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে এবং প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকে। সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ঘটে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে।
আরও পড়ুন
ডান দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে পাঠান আনিস হজ মুসা। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর। তার ওই এক মুহূর্তের নৈপুণ্যই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতির মানও তুলে ধরেছে আলজেরিয়া। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে বিবেচিত নেদারল্যান্ডসের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত। আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোল করার ক্ষেত্রে কার্যকারিতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে ডাচদের খেলায়। ফলে মূল আসরের আগে নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে তাদের।
বিশ্বকাপে আলজেরিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনাসহ গ্রুপের অন্য দলগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই- এটাই যেন বুঝিয়ে দিল ‘ডেজার্ট ফক্স’রা।
বিশ্বকাপের আগে নেদারল্যান্ডস তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ৮ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। অন্যদিকে, আলজেরিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। ১৭ জুন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তারা মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
এএডি/