মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুয়েত বুধবার (৩ জুন) দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং একই সঙ্গে দুই ইরানি কূটনীতিককে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এ ঘটনায় কুয়েত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কুয়েত ইতোমধ্যে দেশটিতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের আকার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অভিযোগ তারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামাদ সুলাইমান আল-মাশান কুয়েতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হামিদ ইয়াকুবি ফারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করেছেন।
আরও পড়ুন
সেখানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কুয়েতের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ধারাবাহিক হামলায় দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেসামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কুয়েতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হামাদ সুলাইমান আল-মাশান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড তারা মেনে নেবে না। তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার বা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সহায়তার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং রাষ্ট্রদূতকে তলবের এই সিদ্ধান্ত কুয়েত-ইরান সম্পর্কে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এএডি/