যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে নিজেদের স্বাধীন ভূখণ্ডের ওপর কোনো ধরনের ইসরায়েলি সামরিক দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া হবে না এবং আগ্রাসী বাহিনীর ওপর তাদের এই প্রতিরোধ হামলা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার ও সামরিক অবস্থানের কথা জানানো হয়।
হিজবুল্লাহ তাদের দাপ্তরিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সংগঠনটির বিশেষায়িত যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের ইয়াহমার আল-শাকিফ শহরের পাশে অবস্থিত একটি প্রধান ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি নিখুঁত ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এর পাশাপাশি রাশাফ শহরে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি পদাতিক সৈন্যদের একটি বড় সমাবেশের ওপরও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি। লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ও শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা এবং সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই হিজবুল্লাহর এই জোরালো সামরিক অভিযানগুলো পরিচালিত হলো।
এদিকে হিজবুল্লাহর বর্তমান মহাসচিব নাইম কাসেম এক বিশেষ বার্তায় সংগঠনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে হলো লেবাননের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের সীমান্ত থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যতদিন পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে একজন ইসরায়েলি সেনারও অবৈধ দখলদারিত্ব থাকবে, ততদিন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর প্রতিটি যোদ্ধা এই অন্যায় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে আইনিভাবে বাধ্য থাকবে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে সম্মুখ সমরে সফররত ইসরায়েলের নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলোর ব্যক্তিগত সামরিক গাড়িটি লক্ষ্য করে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালায় হিজবুল্লাহ।
ইসরায়েলি মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সরাসরি ওই কমান্ডারের চলন্ত গাড়িটিতে আঘাত হেনে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। তবে হামলার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে মেজর জেনারেল রাফি মিলো এবং তাঁর সঙ্গে থাকা একজন উচ্চপদস্থ সহযোগী কৌশলগত কারণে গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ায় অলৌকিকভাবে কেউ হতাহত হননি। এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা