অনিরাপদ খাদ্যে বছরে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু : ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন

2026-06-04T20:45:39+00:00
2026-06-04T20:45:39+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অনিরাপদ খাদ্যে বছরে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু : ডব্লিউএইচও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ৮)
ফাইল ছবি
বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং একই কারণে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে কমবয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি এবং অসম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এই বিশেষ পরিসংখ্যান প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন এই প্রাক্কলিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা দূষিত ও অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স্কদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ এই বয়সের শিশুরা হলেও সামগ্রিক ফুডবর্ন ডিজিজ বা খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হলো এই নিষ্পাপ শিশুরা। 

সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, উন্নত পানি সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য অভ্যাস এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অসুস্থতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রতিবেদনটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেউসুস বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা কোনো কাল্পনিক বা বিমূর্ত বিষয় নয়, এটি প্রতিটি দিনের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি বেলার আহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। 

ডব্লিউএইচও এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর মতো বিভিন্ন জৈবিক উপাদানের কারণে সিংহভাগ মানুষ খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হলেও কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দূষণের কারণে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে যে ২০২১ সালে খাদ্যজনিত কারণে হওয়া মোট মৃত্যুর ৭৩ শতাংশেরই মূল কারণ ছিল রাসায়নিক দূষণ, যার মধ্যে মূলত অজৈব আর্সেনিক এবং সিসার বিষক্রিয়ার কারণেই ১০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন, যা মানবদেহে হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে অনিরাপদ খাদ্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর পড়া মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, কেবল ২০২১ সালেই খাদ্যবাহিত রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩১০ বিলিয়ন বা ৩১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে, যা মানুষের জীবনযাত্রার খরচের পার্থক্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করলে এর প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪৭ বিলিয়ন ডলারে। 

ভৌগোলিক বিচারে এই জনস্বাস্থ্য সংকটের ক্ষেত্রে একটি বড় আঞ্চলিক বৈষম্য রয়ে গেছে, যেখানে বিশ্বের মোট খাদ্যজনিত অসুস্থতার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং সামগ্রিক মৃত্যুর ৬০ শতাংশই ঘটে থাকে মূলত আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস এবং খাদ্য ব্যবস্থার বৈষম্যের কারণে এই ঝুঁকি দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে বলে সতর্ক করে ডব্লিউএইচও বিশ্বের সব দেশের সরকারকে নজরদারি জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: