প্রেম ও যুদ্ধে নাকি কোনো কিছুই অন্যায় নয়— জনপ্রিয় এই প্রবাদটিকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করতে চাইল ভারতের নাগপুরের দুই তরুণ। নিজেদের প্রেমিকাদের আইফোন উপহার দেওয়ার তীব্র বাসনা থেকে তারা একটি গোডাউন থেকে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রুপির বিলাসবহুল ডিজাইনার কল (ট্যাপ) চুরি করে বসে। তবে চুরির পর সেই মহামূল্যবান সামগ্রী তারা মাত্র ২০ হাজার রুপিতে এক স্থানীয় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়।
প্রেমিকাদের দামি আইফোন কিনে দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল ওই দুই তরুণের। কিন্তু বৈধ উপায়ে সেই টাকা জোগাড় করতে না পেরে তারা শেষমেশ চুরির পথ বেছে নেয় এবং স্থানীয় একটি স্যানিটারি সামগ্রীর গুদামে হানা দেয়।
চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ‘রাহুল সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি স্যানিটারি ও টাইলস বিপণন প্রতিষ্ঠানের মালিক রাহুল জয়চাঁদ বাত্রা থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। বাত্রার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ ও ২৮ মে মধ্যবর্তী রাতে অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা তার গুদামের ছাদের টিনের চালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তারা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার রুপি মূল্যের বিলাসবহুল স্যানিটারি পণ্য ও দামি কল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া মালামালের তালিকায় ছিল— ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ রুপি মূল্যের পাঁচটি গোল্ড-টোন ডিজাইনার কল, ৬৭ হাজার রুপি মূল্যের তিনটি সাধারণ সোনালি রঙের কল, ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ রুপি মূল্যের নয়টি রোজ-গোল্ড রঙের কল এবং ৫৮ হাজার রুপি মূল্যের চারটি রুপালি রঙের কল।
ঘটনার তদন্তে নেমে নাগপুরের কালামনা থানার পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং এর আশেপাশের এলাকার প্রায় ২০ থেকে ৩৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। একই সাথে স্থানীয় গোপন তথ্যদাতাদেরও কাজে লাগানো হয়। অবশেষে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফাঁদ পেতে সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আটক হওয়া দুই কিশোর ও তাদের মূল সহযোগী অপরাধের কথা স্বীকার করে। তারা জানায়, প্রেমিকাদের আইফোন উপহার দিয়ে খুশি করতেই মূলত তারা এই চুরির ছক কষেছিল। টাকার জন্য মরিয়া হয়েই তারা এই পথ বেছে নেয়। তবে দুঃখের বিষয়, সাড়ে ৬ লাখ রুপির সেই রাজকীয় কলগুলোর প্রকৃত মূল্য বুঝতে না পেরে তারা এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ২০ হাজার রুপিতে সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছিল।
পুলিশ এই চোরাই মাল কেনার অপরাধে ৩৮ বছর বয়সী ইরফান আলী ওরফে ইম্মু রমজান আলী নামের ওই ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে।
কালামনা থানার সাব-ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার রামলোদ গণমাধ্যমকে জানান, প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। আসামিদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সাড়ে ৬ লাখ রুপির সব স্যানিটারি সামগ্রী অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
/কহু