ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর থেকে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অনেক সময় অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। আর এই পুশ-ইনকে ঘিরে নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত আদিবাসী লোকজন দুইপাড়ে আসা যাওয়া করলেও বর্তমানে তা একেবারেই বন্ধ রয়েছে। তবে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় বিজিবি অধিনায়ক।
জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে সীমান্ত এলাকায় দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা দুটি উপজেলা রয়েছে। আর এই উপজেলাগুলো ভারতের মেঘালয়ের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত। ফলে আগে প্রতিনিয়তই আদিবাসীরা তাদের স্বজনদের কাছে বিভিন্নভাবে যোগযোগ রক্ষা করত। অনেক সময় সীমান্ত এলাকায় বাজারগুলোতে দুই দেশের লোকজনও সাময়িকভাবে যাতায়াত করত। কিন্তু বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের মানুষের অবৈধভাবে আসা যাওয়া থাকলেও বর্তমানে একেবারে তা বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও কিছুদিন পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকার শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘুরা ভয়ে রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় রয়েছে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা।
বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন নেত্রকোনার (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক ব্যাপক পুশ-ইন করানোর প্রচেষ্ট চালানো হচ্ছে। নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে এ ধরনের পুশ-ইন যেন না করতে পারে সেজন্য বিজিবির সব বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সম্ভাব্য পুশ-ইন এর স্থানগুলো চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়াও রাতের বেলায় সীমান্তে বিজিবি'র উপস্থিতি বিএসএফকে বুঝানোর জন্য মেগাফোন, লাইট, বাঁশি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীর সহায়তায়ও টহল করা হচ্ছে এবং তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও সোর্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনে প্রায় ৯২.৬০ কিলোমিটার সীমান্ত এরিয়া রয়েছে। তার মধ্যে বিওপি রয়েছে ১৫টি। তবে ১২টি স্থানে কোনো তারকাটা নেই। রয়েছে নদী এবং ছড়া। যেখান দিয়ে অনায়াসে মানুষ আসা যাওয়া করতে পারে। তবে সেই স্থানগুলোতে বিজিবির পেট্রোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও বিওপিতে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পুশ-ইন এর ঘটনা ঘটেনি।
সময়ের আলো/জোই