পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক পাঠানোর) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনগণের কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই ১০ জন সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল কাঁটাতারের বেড়া পার করে ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।
ভোরে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবিকে খবর দেয় এবং সবাই মিলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করে। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে ওই ১০ জন বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি।
অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে পুশইনের শিকার হওয়া ওই ১০ জন নারী ও শিশু বর্তমানে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরের দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তে দুই বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান ও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জিরো লাইনে অবস্থান করা ব্যক্তিদের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক ও আলোচনা চলছে। আমরা কোনোভাবেই অবৈধ কাউকে দেশের সীমানায় প্রবেশ করতে দেব না।
সীমান্তে যে-কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই