লোকসভাতেও ভাঙনের শঙ্কায় মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের নতুন পরিষদীয় দল গঠনের

2026-06-05T17:41:11+00:00
2026-06-05T17:41:11+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
লোকসভাতেও ভাঙনের শঙ্কায় মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ পিএম   (ভিজিট : ১৭)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : এনডিটিভি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের নতুন পরিষদীয় দল গঠনের পর এবার লোকসভা ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্যদের মধ্যেও একই ধরনের বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

দলের একাধিক সিনিয়র সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল কি আরও বড় ভাঙনের মুখে? এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া এই দলটির ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে যে তৃণমূল কংগ্রেস কি অনেক দিন ধরেই ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল? নাকি এতদিন যারা দলের সঙ্গে ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ কেবল সুসময়েই পাশে ছিলেন? 

শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কাকলি ঘোষ দস্তিদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও দলের পরিচালনা নিয়ে পরোক্ষ সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, আপনি কি মনে করেন, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সংসদ সদস্য, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন?

ইতোমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তারা বিধানসভার ভেতরে ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে একটি নতুন পরিষদীয় দলও গঠন করেছেন। 

এবার একই ধরনের পরিস্থিতি লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও দেখা যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার অনেক দিন ধরেই দলের অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। সম্প্রতি তাকে লোকসভার চিফ হুইপের পদ থেকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর কাকলি দলের সব পদ ছেড়ে দেন।   

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তিনি বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। তবে নারদা মামলার কারণে বিজেপিতে যোগ না দিলে লোকসভায় সম্ভাব্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’-এর অন্যতম মুখ হতে পারেন তিনি। 

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এটা আসলে নীতির বিরুদ্ধে এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দেওয়া একটি রায়। 

রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়ও সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে লোকসভায় ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এত দ্রুত যে বিধানসভায় ৬০ জন বিধায়ক চলে যাবেন, এটা আমি কখনও দেখিনি। আমি যেটা বলছি, লোকসভাতেও একই প্রতিক্রিয়া হতে চলেছে। আমাকে এমন কিছু লোকসভার সদস্য, আমার সহকর্মীরা বলেছেন যে তারা প্রস্তুত। তাতে আমার মনে হচ্ছে, এটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটতে চলেছে লোকসভাতেও।  


এখন প্রশ্ন উঠেছে, লোকসভা ও রাজ্যসভায় থাকা তৃণমূলের মোট ৪২ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে কতজন দল ছাড়তে পারেন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন এবং সেখানে সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্য তথা ২০ জন বা তার বেশি সংসদ সদস্য বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সংসদীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হতে পারে। 

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ জন সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে ভিন্ন অবস্থানে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছেন এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এমন পরিস্থিতিতে কট্টর মমতাপন্থি হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখন কোনও কিছুই বুঝতে পারছি না। সব হিসাব গুলিয়ে গেছে। যতক্ষণ যা না হবে, ততক্ষণ কিছু বলতে পারব না। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের একত্রিত করার পর এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সহযোগীদের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তৃণমূলের সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া।  

কারণ দলের নাম ও প্রতীকের ওপর অধিকার দাবি করতে হলে শুধু বিধায়কদের নয়, সংসদ সদস্যদেরও উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সমর্থন আদায়ে সফল হলে বিদ্রোহী শিবির ভবিষ্যতে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক বৈধতার দাবিও তুলতে পারে।

এমন অবস্থায় বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদ্রোহী বিধায়কদের নিজেদের পক্ষে আনার পর এখন লোকসভা ও রাজ্যসভাকেও ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস আরও বড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   লোকসভা  নির্বাচন  মমতা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: