মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্থানীয় ব্যবসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে বিদেশিদের হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে প্রাপ্ত অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে, আইন লঙ্ঘনকারী এবং ব্যবসার লাইসেন্স, ভিসা বা সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রয়োগকারী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারী বিদেশি নাগরিক বা তাদের সহায়তাকারী মালয়েশিয়ান নাগরিক কাউকেই এই বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাজিল এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান। অতি সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ওঠা একটি পিটিশনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফাহমি স্পষ্ট করেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো জাতিগোষ্ঠী বা শরণার্থী সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই নির্দেশনা দেননি। মূলত স্থানীয় ব্যবসায়িক খাতে সামগ্রিকভাবে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ সম্পৃক্ততা এবং নিয়মের ব্যত্যয় ঘটার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার অবসান ঘটাতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
এদিকে, মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের একটি সামাজিক কল্যাণ সংস্থা (সুরপ্লাস) দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং তাদের একাংশের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থার চেয়ারম্যান সোফিয়ান মোহদ জাইন জানান, মানবিক কারণে শরণার্থীদের শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টিকে তারা স্বাগত জানালেও শরণার্থী মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কেউ কেউ বিশাল মূলধনের ব্যবসা পরিচালনা করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
তিনি আরও জানান, এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বৈধ লাইসেন্সধারী সকল ব্যবসায়ীকে দেশের প্রচলিত নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
/ইউএমএইচ