জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পুতিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বা মুখোমুখি বসে আলোচনা করার প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট

2026-06-06T09:23:31+00:00
2026-06-06T09:23:31+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পুতিনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ এএম   (ভিজিট : ১৮)
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বা মুখোমুখি বসে আলোচনা করার প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা বা অর্থ তিনি দেখছেন না।

শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত রাশিয়ার শীর্ষ অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন এই মন্তব্য করেন। এর ঠিক এক দিন আগে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই নেতার মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পুতিনের এই নেতিবাচক অবস্থানের পর শুক্রবার রাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। নিজের ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ক্রেমলিনের এই প্রত্যাখ্যানই প্রমাণ করে যে রাশিয়ার যুদ্ধ থামানোর কোনো সদিচ্ছা নেই।

জেলেনস্কি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, রুশ পক্ষ আরও একবার যুদ্ধের পথকেই বেছে নিল। তাদের এই প্রতিক্রিয়া সবাই শুনেছে— এটি অত্যন্ত দুর্বল একটি প্রতিক্রিয়া। আমি মনে করি, ক্রেমলিনের এই জবাব বিশ্বের অনেক দেশকেই হতাশ করবে।

এর আগে জেলেনস্কি তার চিঠিতে পুতিনকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে ভয় পাবেন না। পুতিনের দাবি, চিঠির এই ভাষা ছিল ‘অশোভন’ এবং এর মধ্যে কোনো আন্তরিকতা ছিল না।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই চিঠিতে কিছু বেশ রূঢ় মন্তব্য রয়েছে। এটি কি মুখোমুখি বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করার জন্য লেখা, নাকি বৈঠকটি যাতে না হয় সেই উদ্দেশ্যে? আমার মনে হয় উদ্দেশ্য দ্বিতীয়টিই ছিল।’ ইউক্রেনীয় নেতার সাথে দেখা করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন সরাসরি বলেন, ‘আমি আপাতত এর কোনো মানে দেখছি না। ইউক্রেনীয় পক্ষ যদি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামাতে পারে, তবেই কেবল এটি অর্থপূর্ণ হতে পারে। আগে আমাদের বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন, তারা কিছু সমাধান বের করুক, তারপর আমরা বসতে পারি।

ভূখণ্ড নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে পাঁচ বছরে পা দেওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়া তাদের দখলকৃত অঞ্চল ছাড়তে নারাজ, আর ইউক্রেনও এক ইঞ্চি জমি রাশিয়াকে ছেড়ে দিয়ে কোনো চুক্তি করতে রাজি নয়।

এদিকে, এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারণে। দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন সংকটের শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া আমেরিকা বর্তমানে তাদের ভূরাজনৈতিক মনোযোগ সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে নিয়েছে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের দিকে। জেলেনস্কি তার খোলা চিঠিতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ওয়াশিংটন কখন আবার এদিকে মনোযোগ দেবে— তার জন্য শুধু অপেক্ষা করে বসে থাকা ইউক্রেনের জন্য ভুল হবে।

পুতিন এর আগেও জেলেনস্কিকে আলোচনার জন্য মস্কো সফরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে পুতিন জানিয়েছেন, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের পর্যায় তৈরি হলে তিনি তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

শুক্রবার পুতিন তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রাশিয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান থামবে না। তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপ একদিন শেষ হবে, সন্দেহাতীতভাবেই তা শেষ হবে— তবে তা হবে আমরা নিজেদের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, তা অর্জিত হওয়ার পর।

সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে- রাশিয়া রণক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ভ্লাদিমির পুতিন অন্তত এই মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ করতে একেবারেই ইচ্ছুক নন।

এদিকে ইউক্রেনে ক্রেমলিনের এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের কারণে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর ব্যাপক চাপ পড়েছে। জিনিসপত্রের ক্রমবর্ধমান দাম, কর বৃদ্ধি এবং গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়ার খরচের কারণে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকরা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের বহুমুখী চাপে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (ফার্স্ট কোয়ার্টার) রাশিয়ার অর্থনীতি ০.২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে দেশটির প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক মন্দা বা ধস।

তবে এই সংকটের কথা উড়িয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, অবশ্যই আমরা সবদিক থেকে সমালোচনা শুনছি যে আমাদের সবকিছু নাকি ধসে পড়েছে। আসলে আমরা এখন ঠিক সেই স্তরে নেমে এসেছি, যে স্তরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোজোনের দেশগুলো গত কয়েক বছর ধরে বেঁচে আছে। তবে রাশিয়া একটি ‘সার্বভৌম’ অর্থনীতি গড়ে তোলার পথেই এগিয়ে চলেছে।


  বিষয়:   রাশিয়া  ইউক্রেন  পুতিন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: