ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের ‘ফ্লারিশ ইন’ হোটেলে গত বুধবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন অতিথির মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে হোটেলের প্রধান বাবুর্চি (কুক) কেশব নেগিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) সকালে অগ্নিকাণ্ডের তিনদিন পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর পেছনে বাবুর্চি কেশব নেগির চরম গাফিলতি ও অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। এর আগে হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও বেশ কয়েকজনকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এবং এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেশব নেগি দাবি করেছিল, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ হোটেলের রান্নাঘরে তিনি যখন ইলেকট্রিক চুলাটি চালু করে, তখনই হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিকে আগুন ধরে যায়।
প্রাণ বাঁচাতে কেশব তখন হোটেলের মেইন পাওয়ার সুইচ (প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগ) বন্ধ করে দেয় এবং ঘন ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে হোটেল থেকে পালিয়ে বাইরে চলে আসে। কিন্তু তার এই একটি সিদ্ধান্তই হোটেলের ভেতরে থাকা অতিথিদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। পাঁচ তলা বিশিষ্ট ওই সরু হোটেল ভবনের জানালাগুলো স্থায়ীভাবে সিল করা ছিল এবং বের হওয়ার পথ ছিল মাত্র একটি। সবচেয়ে বড় বিষয়, হোটেলের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং রুমগুলোর দরজা ছিল সেন্সর-চালিত ‘ইলেকট্রনিক ডোর’।
কেশব নেগি মেইন সুইচ বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ব্যাকআপ ব্যবস্থা না থাকায় হোটেলের সমস্ত ইলেকট্রনিক দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা অতিথিরা ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগই পাননি। ধোঁয়ায় দম আটকে এক দম্পতি বাথরুমের ভেতরেই মারা যান, কারণ লক হয়ে যাওয়ায় তারা বাথরুমের দরজাটি পর্যন্ত খুলতে পারেননি।
২২টি কক্ষ বিশিষ্ট ওই বহুতল ভবনের নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ এবং বেজমেন্টসহ বাকি তলাগুলো হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আগুন লাগার পর মাত্র একটি এক্সিট পয়েন্ট এবং লক হয়ে যাওয়া দরজার কারণে পুরো ভবনটি একটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন ভারতীয় এবং ১২ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত এক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ২০২২ সালের পর দেশের রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
/কহু