অনলাইন দুনিয়ায় কোটি কোটি মানুষের বিনোদন আর হাসির খোরাক জোগানো ভার্চুয়াল আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবার আক্ষরিক অর্থেই আছড়ে পড়ল বাস্তব দুনিয়ার রাজপথে। শনিবার (৬ জুন) ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদী কেন্দ্র যন্তর মন্তরে প্রথমবারের মতো সমবেত হয়েছেন এই দলের শত শত সমর্থক। এর মাধ্যমে স্ক্রিনের ভেতরের একটি ‘অনলাইন জোক’ বা ব্যাঙ্গাত্মক আন্দোলন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হলো।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফিড এবং নিউজ হেডলাইন দখল করে রাখা এই ডিজিটাল আন্দোলনটি লাখ লাখ তরুণ ভারতীয়দের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছে। তবে আজ যন্তর মন্তরের এই সমাবেশটি কেবল অনলাইনের জনপ্রিয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং একে রূপ দিয়েছে রাজপথের অধিকার আদায়ের এক নতুন রাজনীতিতে।
আজ সকাল থেকেই সংসদ ভবনের অদূরে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন মূলত তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। তাদের অনেকের হাতেই ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্গাত্মক ও দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড, আর মুখে ছিল আন্দোলনের প্রতীক ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ মাস্ক।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই আন্দোলনটি কেবল একটি সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থা, চাকরির অভাব এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিরুদ্ধে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। শেষ পর্যন্ত এই সমাবেশে আরও কত হাজার তরুণ যোগ দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই জমায়েত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য একটি আগাম অ্যাসিড টেস্ট— অনলাইনের এই বিপুল জনপ্রিয়তা সত্যিই কি তৃণমূল স্তরের গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারবে কি না, তা দেখার।
এই আন্দোলনের মূল রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আজ শনিবার সকালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল লাউঞ্জেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী লোহার ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা মুড়ে ফেলে।
বিমানবন্দর থেকে নেমেই কোনো বাধা তোয়াক্কা না করে সরাসরি আন্দোলনে যোগ দিতে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন দিপকে। ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্ষোভকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সামাজিক আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দিচ্ছে।
/কহু