ইরানের ৪টি ড্রোন ও রাডার স্টেশন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানের ৪টি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী ড্রোন) গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক

2026-06-06T08:55:33+00:00
2026-06-06T08:55:33+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের ৪টি ড্রোন ও রাডার স্টেশন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ এএম   (ভিজিট : ২৫)
সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানের ৪টি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী ড্রোন) গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছিল।

ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পর মার্কিন বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ এবং আত্মরক্ষার্থেই এই রাডার সাইটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেনি।

এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে।

গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) কারিগরি ত্রুটির কারণেই কুয়েত বিমানবন্দরে ওই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে আইআরজিসির এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সেন্টকম পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, ইরান অত্যন্ত পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে ওই বিমানবন্দরে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। অবশ্য এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক ও দূরপাল্লার বিমান হামলা চালায়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম দেয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে। একই সাথে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয়, যে রুটটি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হয়। ইরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে দুই পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন, প্রত্যয়িত এবং স্বাক্ষরিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর এই অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি থাকবে। 

/কহু


  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: