নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষে একটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও বিএনপি কর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিম এবং নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিক দল নেতা হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগের দিন শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে একই বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি, সহযোগী সংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টার দিকে কর্মসূচি শেষে নেতা-কর্মীরা ফেরার সময় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা খবর পান, পাশের কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি দল পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে পাল্টা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবর পেয়ে ছাত্রদলের একদল কর্মী সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে শ্রমিক দল নেতা হৃদয়ের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং একটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর জবাবে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীরাও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন।
সন্ধ্যায় শ্রমিক দল নেতা আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির আরও কয়েকশ নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সুধারাম থানা পুলিশ এবং নোয়াখালী ক্যাম্পের র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর ছোট ভাই আবির অভিযোগ করেন, তার ভাই বাড়ির পাশের একটি কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর সন্ধ্যায় ছাত্রদল কর্মীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের দাবি, বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে জেলা শহরে ফেরার পথে চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে শ্রমিক দল নেতাসহ বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং তাদের মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি একটি কার্যালয় ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরবিএন