গাজীপুরের কালিয়াকৈর সরকারি কলেজে যথাযথ মর্যাদায় ‘জুলাই দিবস’ পালন না করার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষের (ভাইস প্রিন্সিপাল) পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের শহিদদের স্মরণ এবং আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে দিনটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে পালনের কথা ছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানে কোনো সঠিক আয়োজন করা হয়নি। উল্টো কলেজ কর্তৃপক্ষ ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত দিবসটি পালন না করে বরং কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। জানা যায়, ওই সময়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের পূর্বনির্ধারিত একটি নৌকা ভ্রমণের কর্মসূচি ছিল।
রোববার সকালে ক্লাস বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সমবেত হন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তাল পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের কিছু আসবাবপত্র ও কক্ষ ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের বীর শহিদদের স্মরণে পুরো দেশ যখন গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে, তখন আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তা পালন না করে তড়িঘড়ি করে নৌকা ভ্রমণে চলে যান। শহিদদের রক্তের সঙ্গে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্বৈরাচারী মানসিকতার এই উপাধ্যক্ষকে আমরা আর এই পদে দেখতে চাই না।
এ বিষয়ে কথা বলতে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান শাখার প্রভাষক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সেলিম হোসেন বলেন, দিবসটি পালনের জন্য সরকারিভাবে ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির কপি আমরা হাতে পেয়েছিলাম। কিন্তু ওই দিন পূর্বনির্ধারিত নৌকা ভ্রমণের তারিখ থাকায় সকাল ৮টার দিকে দিবসটি খুব ছোট পরিসরে শেষ করা হয়। এরপর আমরা সবাই নৌকা ভ্রমণে যাই।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম পিপিএম (বার) জানান, কলেজে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই