ক্লিন কুয়াকাটায় কক্সবাজারের ‘সাম্পান’

হাফিজুর রহমান আকাশ, কুয়াকাটা

সারাদেশ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় আয়োজিত ‘প্লাস্টিকমুক্ত কুয়াকাটা ২০২৬’ কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার ঝড়

2026-06-07T05:16:37+00:00
2026-06-07T05:16:37+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
ক্লিন কুয়াকাটায় কক্সবাজারের ‘সাম্পান’
হাফিজুর রহমান আকাশ, কুয়াকাটা
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:১৬ এএম   (ভিজিট : ১০)
ছবি : সময়ের আলো
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় আয়োজিত ‘প্লাস্টিকমুক্ত কুয়াকাটা ২০২৬’ কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কর্মসূচির টি-শার্ট, ক্যাপ ও প্রচারসামগ্রীতে কুয়াকাটার নিজস্ব কোনো প্রতীক বা মনোগ্রামের পরিবর্তে কক্সবাজারের পরিচিত প্রতীক ‘সাম্পান’-এর ছবি ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।

শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও কোলাস গ্লোবলের উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্লাস্টিকমুক্ত কুয়াকাটা ২০২৬’ শীর্ষক পরিচ্ছন্নতা অভিযান। দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

সমালোচকদের অভিযোগ, ‘প্লাস্টিকমুক্ত কুয়াকাটা’ সেøাগানে আয়োজন করা হলেও কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন, পানির বোতল ও অন্যান্য উপকরণে প্লাস্টিকের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। একই সঙ্গে কুয়াকাটার নামে আয়োজিত কর্মসূচিতে কুয়াকাটার নিজস্ব ব্র্যান্ডিং অনুপস্থিত থাকাকে অনেকে অবহেলা কিংবা পরিকল্পিত ভুল হিসেবে দেখছেন।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য। এখানে পরিবেশ-বিষয়ক কর্মসূচি আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে প্রোগ্রামে তারা মুখে প্লাস্টিকমুক্ত বললেও তাদের প্রোগ্রামে ছিল প্লাস্টিকের পানির বোতলসহ অন্যান্য প্লাস্টিকসামগ্রী। কুয়াকাটার পরিচিতি তুলে ধরার পরিবর্তে কক্সবাজারের প্রতীক ব্যবহার করা দুঃখজনক। ভবিষ্যতে আয়োজকদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও হোটেল সমুদ্র বিলাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইসমাইল ইমন বলেন, কুয়াকাটাকে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ ছিল এই আয়োজনে। কিন্তু প্রচারসামগ্রীতে কুয়াকাটার কোনো পরিচয় না রেখে অন্য এলাকার প্রতীক ব্যবহার করায় পর্যটনসংশ্লিষ্টরা হতাশ হয়েছেন। বিষয়টি আয়োজকদের নজরে আনা প্রয়োজন। 

অভিযোগের বিষয়ে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুইনুল আহসান ফয়সাল বলেন, ‘আমরা মূলত কুয়াকাটার পরিচিত প্রতীক লাল কাঁকড়া এবং স্থানীয় ফিশিং ট্রলারগুলোকে ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় আনতে ছবিটি ব্যবহার করেছি। এর পেছনে আমাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা পলিথিন ও প্লাস্টিকের কিছু উপকরণ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছি। বিষয়টি পরিবেশগতভাবে কতটা সংবেদনশীল, সে বিষয়ে আগে থেকে যথাযথভাবে অবগত করা হলে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলটি হতো না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকব।’ 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, এই প্রোগ্রামটি সরকারি হলে আমাদের শতভাগ নজরদারি থাকত। এটি বেসরকারি প্রোগ্রাম হওয়ায় তাদের কাজ সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না। আয়োজকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতের কর্মসূচিগুলোতে কুয়াকাটার নিজস্ব পরিচয় আরও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়।

আরবিএন


  বিষয়:   কুয়াকাটা  কক্সবাজার  সাম্পান 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: