নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পর সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রায়পুরা থানায় নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে ফরিদ গ্রুপের প্রধান ফরিদ উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে এই মামলাটি করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি এলাকার সরকারবাড়ির মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়া ফরিদ গ্রুপের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে ফরিদের লোকজন মোমেন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে মোমেন মিয়াকে মাটিতে ফেলে শর্টগান দিয়ে প্রথমে পায়ে এবং পরে ঘাড় ও মাথার পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় হামলাকারীদের মারধরে আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
নিহত মোমেন মিয়া ওই গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে। হামলায় আহতদের মধ্যে মৃত খালেক মিয়ার ছেলে মোবারক (৬৫), শহিদ মিয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন (৩০) এবং কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন (৩৭) ঘটনার দিন সকালে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নেন।
চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিহতের চাচাতো ভাই মোমেন সরকার জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পরও সন্ত্রাসীরা এলাকায় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। এসব অপরাধীকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও নিহতের ভাই আমিন মিয়া বলেন, সন্ত্রাসীরা বড় ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বাজারে তারা এখনও অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করছে। নিজের জীবন বাঁচিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এসময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল এর নিকট অনুরোধ করে বলেন, আপনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে জানুন তারা এখনও কি পরিমাণ অত্যাচার করতেছে। অতি দ্রুত যেনো এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয় সে ব্যবস্থা করুন। চরাঞ্চলকে শান্ত করতে প্রশাসনের নিকটও অনুরোধ জানান তিনি।
নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/জোই