আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন ঘিরে বৈরি রাষ্ট্র ইরানের ওপর এক নজিরবিহীন ও ন্যাক্কারজনক ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার কঠোর ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন বা ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে ইরানি জাতীয় ফুটবল দলকে এখন ম্যাচের দিন সকালে মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে হবে এবং খেলা শেষ হওয়ামাত্র সেই দিনই রাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি ত্যাগ করতে হবে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পসান্দিদেহ সাংবাদিকদের কাছে ওয়াশিংটনের এই বৈষম্যমূলক ও নজিরবিহীন আচরণের তথ্য জানিয়েছেন।
মেক্সিকো সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আমাদের দলকে তারা বেশি সময় অবস্থান করতে দিচ্ছে না। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরা কেবল ম্যাচের দিন সকালে মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারব এবং খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ওই দিনই আমাদের মার্কিন মাটি ত্যাগ করতে হবে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইরান জাতীয় ফুটবল দলের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসন শহরে একটি দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান বহুমুখী যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ইরানি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে ইরান তাদের আদি পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় এবং বর্তমানে বিশ্বকাপ দলের খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় ও চূড়ান্ত অনুশীলনের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র মেক্সিকোকে তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি বা ক্যাম্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী, ইরানের অন্তত তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলোর জন্যই ইরানকে প্রতিবার মেক্সিকো থেকে উড়ে গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার ওই দিনই মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হবে, যা ক্রীড়া ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
কূটনৈতিক মহলের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, তারই সরাসরি প্রভাব পড়ল এবার বিশ্বকাপের সবুজ মাঠে। আমেরিকার ওই হামলার জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ করে দেয়।
যদিও বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা’র নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী সকল দেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের অবাধ যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
/কহু