চলতি মৌসুমে পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় চাষকৃত চিনা বাদামের বাম্পার ফলনে মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে চিনাবাদামের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, তিনি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। বীজ বপনের কিছুদিন পরই খরায় কিছু জমির বাদাম গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে, পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হওয়ায় গাছগুলো পুনরায় তাজা হয়ে ওঠে। দুই সপ্তাহ ধরে চর অঞ্চলের অনেক বাদাম চাষিরা খেত থেকে বাদাম তুলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের আড়ৎ এবং বেপারিদের কাছে বিক্রি করছেন এবং ভালো দামও পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি মণ ভেজা বাদাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে এবং শুকনো বাদাম তার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করছেন কৃষকরা।’
পেচাকোলা গ্রামের আমিন মন্ডল জানান, তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে গড়ে ৭ মণ করে। প্রতি মণ শুকনো বাদাম হাটে গড়ে ৫-৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরজমিনে উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা বাদাম গাছ তুলে এনে মহিলা শ্রমিক দিয়ে গাছ থেকে বাদাম ছেঁড়ার কাজ করাচ্ছেন। পেচাকোলা গ্রামের জুলেখা, আমেনা, মনজেলাসহ অনেক মহিলা শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাদাম ছিঁড়ে তারা গাছগুলো পারিশ্রমিক হিসেবে জ্বালানি কাজে ব্যবহারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির সময়ের আলোকে বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে বাদামের বীজ এবং বিভিন্ন প্রণোদনাসহ মাঠ পর্যায়ে বাদাম চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় এবং চরাঞ্চলের অর্থকরী ফসল চিনা বাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।’
/মহু