লেবাননের সাথে সদ্য স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলায় দক্ষিণ লেবাননে পৃথক ঘটনায় আরও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে (উইকেন্ডে) এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সিএনএনের প্রখ্যাত সাংবাদিক ওরেন লিবারম্যানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি সামরিক প্রশাসনের প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষের দিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র কয়েক দিনে হিজবুল্লাহর পাল্টা আঘাতে মোট তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত হলেন।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত শনিবার (৬ জুন) দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সম্মুখযুদ্ধে ২৩ বছর বয়সী ইসরায়েলি ক্যাপ্টেন শাহার গালমা নিহত হন। এর মাত্র এক দিন আগে, গত শুক্রবার নিহত হন সার্জেন্ট ওহাদ ইয়ারি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২১ বছর বয়সী আরেক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এইতান লেমবার্গ নিহত হয়েছিলেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুই অফিসারসহ তিন সেনার এই মৃত্যু ইসরায়েলি কমান্ডোদের লেবানন ফ্রন্টে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে ইরানের সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর প্রতিরোধে অন্তত ৩০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাথে কর্মরত একজন বেসামরিক ঠিকাদারও প্রাণ হারিয়েছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন সরকারের সাথে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, লেবাননের মূল প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এই চুক্তিকে ইসরায়েলের একপেশে শর্ত আখ্যা দিয়ে- তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহর স্পষ্ট অবস্থান— যতক্ষণ না গাজা ও লেবানন থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের প্রতিরোধ লড়াই থামবে না।
/কহু