আজকের ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনিয়মিত লাইফস্টাইল আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে ভেতর থেকে ফিট ও চনমনে রাখতে সুপার ফুড হিসেবে দারুণ কাজ করতে পারে ‘আখরোট’। দেখতে মস্তিষ্কের মতো এই ড্রাই ফ্রুটটি পুষ্টির এক অনন্য ভান্ডার।
প্রতিদিনের ডায়েটে মাত্র কয়েকটি আখরোট রাখলে তা কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।আখরোটে থাকা পলিফেনল, ভিটামিন-ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষগুলোর অক্সিডেটিভ ক্ষতি কমায়। ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর আখরোট খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। নিয়মিত আখরোট খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স উন্নত হয়।
আখরোটে থাকা ভিটামিন-বি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বকের বলিরেখা দূর করে। পাশাপাশি এর বায়োটিন (ভিটামিন-বি৭) চুল পড়া রোধ করে এবং চুলকে ভেতর থেকে মজবুত ও উজ্জ্বল করে তোলে।
একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে ৩ থেকে ৪টি (প্রায় ৩০ গ্রাম) আখরোট খাওয়াই যথেষ্ট। রাতে এক বাটি পানিতে আখরোট ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খালি পেটে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে এর হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং শরীর পুষ্টি উপাদানগুলো পুরোপুরি শোষণ করতে পারে।
বাজারের নামি-দামি সাপ্লিমেন্টের পেছনে টাকা খরচ না করে, প্রকৃতির এই ছোট উপহারটিকে আপন করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। সালাদ, ওটস, স্মুদি কিংবা বিকালের হালকা নাশতা হিসেবে বা যেভাবেই হোক প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আখরোট রাখুন। সামান্য এই অভ্যাসটিই আপনাকে দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা ও প্রাণবন্ত জীবন।
/এসএকে