কোন বয়সে কেমন খাবার

চিকিৎসাপত্র ডেস্ক

ফিচার

মানুষের শরীরের পুষ্টির চাহিদা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। শিশুকাল থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শরীরের বৃদ্ধি, বিকাশ ও রোগ

2026-06-08T04:24:11+00:00
2026-06-08T04:24:11+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ফিচার
কোন বয়সে কেমন খাবার
চিকিৎসাপত্র ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৪:২৪ এএম   (ভিজিট : ৬)
ছবি : সংগৃহীত
মানুষের শরীরের পুষ্টির চাহিদা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। শিশুকাল থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শরীরের বৃদ্ধি, বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজন হয় ভিন্ন ধরনের খাদ্য। তাই সব বয়সের মানুষের জন্য একই ধরনের খাদ্য পরিকল্পনা কার্যকর নয়। বয়সভিত্তিক সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অপুষ্টি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

জন্ম থেকে ৬ মাস : মায়ের দুধই শ্রেষ্ঠ 
নবজাতকের জন্য জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধই সবচেয়ে উপযোগী খাদ্য। এতে শিশুর প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান, রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি এবং পর্যাপ্ত পানি থাকে। এ সময়ে অতিরিক্ত পানি, মধু বা অন্য কোনো খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মায়ের দুধ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬ মাস থেকে ২ বছর : পরিপূরক খাবারের শুরু
ছয় মাস বয়সের পর শিশুর পুষ্টির চাহিদা বাড়তে থাকে। তাই মায়ের দুধের পাশাপাশি নরম ও সহজপাচ্য পরিপূরক খাবার দিতে হবে। যেমন- খিচুড়ি, ভাত-মাছ, ডিমের কুসুম, ডাল, শাকসবজির পেস্ট, কলা ও অন্যান্য ফল।

এই বয়সে শিশুকে বিভিন্ন স্বাদের খাবারের সঙ্গে পরিচিত করানো জরুরি। তবে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

২ থেকে ১২ বছর : বৃদ্ধি ও শেখার বয়স
এ সময় শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে। তাই তাদের খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের সুষম সমন্বয়।

প্রতিদিনের খাবারে ভাত বা রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শাকসবজি ও ফল রাখতে হবে। স্কুলগামী শিশুদের জন্য সকালের নাশতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিশু চিপস, চকলেট, কোমল পানীয় ও ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও পুষ্টিহীনতার কারণ হতে পারে।

কিশোর-কিশোরী বয়স : বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন
বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। হাড়, পেশি ও রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়।

কিশোর-কিশোরীদের খাদ্যতালিকায় দুধ, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, বাদাম, সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল রাখা জরুরি। বিশেষ করে কিশোরীদের আয়রনের ঘাটতি প্রতিরোধে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।

২০ থেকে ৪০ বছর : কর্মক্ষমতা ধরে রাখার বয়স
এ বয়সে অধিকাংশ মানুষ পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন। তাই শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল, চিনি ও জাঙ্ক ফুড কমাতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৪০ থেকে ৬০ বছর : রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা
এই বয়সে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই খাদ্য নির্বাচনে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

লাল মাংস ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কম খেয়ে মাছ, ডাল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত। লবণ গ্রহণ সীমিত রাখা এবং পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।

৬০ বছরের পর : সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হজমশক্তি ও ক্ষুধা কমে যেতে পারে। অনেকের দাঁতের সমস্যাও দেখা দেয়। তাই বয়স্কদের জন্য নরম, সহজপাচ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।

খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, মাছ, ডিম, ডাল, সবজি, ফল ও পর্যাপ্ত পানি রাখতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। সুস্থ থাকার জন্য শুধু পেট ভরানো নয়, বয়স অনুযায়ী সঠিক খাবার নির্বাচনও জরুরি। জীবনের প্রতিটি ধাপে শরীরের প্রয়োজন আলাদা। 

তাই বয়সভিত্তিক সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়। মনে রাখতে হবে, সঠিক খাদ্যই সুস্থ জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

/এসএকে


  বিষয়:   বয়স  খাবার 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: