অনিদ্রা থেকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিকিৎসাপত্র ডেস্ক

ফিচার

রাত ১টা, ২টা কিংবা ৩টা- ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলে, কিন্তু চোখের পাতা এক হয় না। কেউ বিছানায় শুয়ে অবিরত ফোনের

2026-08-17T03:50:23+00:00
2026-08-17T03:50:23+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
অনিদ্রা থেকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
চিকিৎসাপত্র ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
রাত ১টা, ২টা কিংবা ৩টা- ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলে, কিন্তু চোখের পাতা এক হয় না। কেউ বিছানায় শুয়ে অবিরত ফোনের স্ক্রিন স্ক্রল করছেন, কেউবা ল্যাপটপে দেখছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওয়েব সিরিজ, আবার কেউ হয়তো অকারণেই এপাশ-ওপাশ করছেন। আধুনিক তরুণ প্রজন্মের একাংশের রাতের চিরাচরিত চিত্র এটি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ইনসোমনিয়া’ বা অনিদ্রা। 

একসময় অনিদ্রাকে বয়স্কদের রোগ মনে করা হলেও বর্তমান যুগে এটি তরুণদের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করেছে। কর্মব্যস্ততা, ক্যারিয়ারের প্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত গ্যাজেটনির্ভরতা এবং বিশৃঙ্খল জীবনযাত্রার কারণে তরুণরা প্রয়োজনীয় ঘুম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এই অনিদ্রাই নিঃশব্দে ডেকে আনছে শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি।

কেন তরুণদের চোখে ঘুম নেই?

তরুণদের এই অনিদ্রার পেছনে প্রধান কারণ- স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপের নীল আলো। এই আলো আমাদের শরীরে ঘুম হরমোন বা ‘মেলাটোনিন’ উৎপাদনে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্ক সিগন্যাল পায় যে এখনও দিন রয়েছে এবং ঘুম আসে না। 

এ ছাড়া ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড়, পরীক্ষার চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা তরুণদের ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে। গভীর রাতে ফাস্টফুড খাওয়া, অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাসও এর জন্য সমভাবে দায়ী। দিনের পর দিন পর্যাপ্ত না ঘুমালে শরীর তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।

হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ

ঘুম কম হলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে আজকাল ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যেও স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা

অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। একই সঙ্গে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে গভীর রাতে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এতে তরুণরা দ্রুত স্থূল হয়ে পড়ছে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে পড়ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয়

অনিদ্রা ও মানসিক স্বাস্থ্য একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কোষগুলো সতেজ হতে পারে না। ফলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, তীব্র অবসাদ, অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা এবং ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতার পেছনেও অনিদ্রার বড় ভূমিকা রয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস

ঘুমের সময় আমাদের শরীর রোগ প্রতিরোধকারী প্রোটিন ‘সাইটোকাইন’ তৈরি করে। ঘুম কম হলে এই প্রোটিন তৈরি ব্যাহত হয়, ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই তরুণরা ফ্লু, ইনফেকশনসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।


মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি লোপ

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে তরুণদের কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। কোনো কাজে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ দেওয়া বা পড়াশোনা মনে রাখা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মুক্তির উপায় : ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে চলা

অনিদ্রার এই সমস্যা থেকে বাঁচতে তরুণদের নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। এ জন্য ‘সিøপ হাইজিন’ বা স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন বন্ধ করে দিতে হবে। বিছানাকে শুধু ঘুমানোর জন্যই ব্যবহার করা উচিত, স্ক্রলিংয়ের জন্য নয়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটি নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখতে হবে- এমনকি ছুটির দিনেও।

শোবার ঘরটি যেন অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক তাপমাত্রায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   অনিদ্রা  স্বাস্থ্যঝুঁকি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: