মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে তীব্র সাইরেন বেজে ওঠে, যার কিছুক্ষণ পরই ইরান থেকে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মধ্য ইসরায়েলের একটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত তিনটি বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই ঘটনার পর পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে জরুরি বৈঠকে বসেন। আইডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর (আইএএফ) বিশেষ কমান্ড বাঙ্কার থেকে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সরাসরি এই পাল্টা হামলার অপারেশন পরিচালনা ও নির্দেশনা দিচ্ছেন।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়— এমন যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে সবকটি ফ্রন্টে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে আইডিএফ সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে ইরান ও ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছিল ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তবে সোমবার সকালের এই দ্বিতীয় দফার হামলা এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার ঘটনাটি গত এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
/কহু