চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার সব ধরনের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দফায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৩০ শতাংশ। তিন মাস পর ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (৮ জুন) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও মরদেহ পরিবহনের নীতিমালায় বর্ণিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন ও যৌক্তিককরণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চমেক হাসপাতাল এলাকায় নির্ধারিত রেট চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হবে এবং কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবেন না। রোগী ও স্বজনদের হয়রানি রোধে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
মেয়র আরও বলেন, ‘এক বছর আগে বিভিন্ন গন্তব্যে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণ করে একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাস পর তা থেকে সরে এসে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এতদিন বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। এখন তেলের দাম বাড়ার কারণে সমিতি এবং সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ ভাড়া বেড়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া রয়েছে ১ হাজার ১৪৪ টাকা। সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে লোহাগাড়া উপজেলায়। সেখানে নন এসি বড় অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং এসি অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৭৮৫ টাকা।’
মেয়র নতুন ভাড়া মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘এই ভাড়ার হার মেনে চলতে হবে। যদি এর চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ আসে, তাহলে আমরা মালিক সমিতির কাছ থেকে জরিমানা করব।’
সভায় চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সমিতির বাইরের অ্যাম্বুলেন্স এসে অনেক সময় ভাড়া নিয়ে যায়। এটা বন্ধ করতে হবে। ’
এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি, পুলিশ এবং বিআরটিএ’র প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেলে চমেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও অ্যাম্বুলেন্স চালক সমিতির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি আনে।
/মহু