বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মিরপুরের উইকেট। সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে যে সবুজাভ উইকেটে ব্যাট-বলের দারুণ লড়াই দেখা গিয়েছিল, এবার সেই চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
তবে ঘাস কম দেখা গেলেও উইকেটের চরিত্র বদলাবে না বলেই জানিয়েছেন মাঠ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের আশা, এই সিরিজেও দেখা যাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট।
শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার থেকে তাকালে সিরিজের জন্য প্রস্তুত করা দুটি কেন্দ্রীয় উইকেটকে আগের চেয়ে কিছুটা বাদামি দেখাচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় ঘাসও কম চোখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘাসের পরিমাণ কম দেখা গেলেও উইকেটের প্রকৃতি আগের দুই সিরিজের মতোই থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উইকেট আগের দুই সিরিজের মতোই হবে। এটি একটি স্পোর্টিং উইকেট হবে।’ তিনি আরও জানান, প্রস্তুতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই উইকেটে রোলার চালানো হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘাসের বড় অংশ পৃষ্ঠের সঙ্গে মিশে গেছে এবং আগের মতো সবুজ দেখাচ্ছে না।
সিরিজের জন্য ৫ ও ৭ নম্বর উইকেট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই উইকেটগুলোতে প্রায় ৪ মিলিমিটার ঘাস রয়েছে। ম্যাচের দিন সকালে তা কেটে প্রায় ৩ মিলিমিটারে নামিয়ে আনা হবে। তার মতে, ‘ওয়ানডেতে আমরা এমন উইকেট বানানোর চেষ্টা করি যেখানে নতুন বলে বোলাররা কিছুটা সুবিধা পাবে।
ইনিংসের শুরুতে উইকেটে আর্দ্রতা থাকবে, তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং সহজ হয়ে যাবে।’ এদিকে দীর্ঘদিন পর আবারও কেন্দ্রীয় উইকেটের ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে হোভার কভার। তীব্র গরম থেকে উইকেটকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও মিরপুরের সাম্প্রতিক উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একসময় মিরপুর মানেই ছিল স্পিন সহায়ক উইকেট এবং ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন জায়গা। কিন্তু গত দুই-তিনটি সিরিজে আমরা এখানে খুব ভালো উইকেটে খেলেছি।’ মিরাজের বিশ্বাস এবারও ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই দেখা যাবে, ‘আমি মনে করি উইকেট ভালো। আমরা চেষ্টা করব ভালো একটি উইকেটে খেলতে।’
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জস ইংলিশও স্বীকার করেছেন, মিরপুরের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো তারা বিশ্লেষণ করেছেন। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দেখে, ‘আমরা এখানে হওয়া নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচগুলো দেখেছি। উইকেটে কিছুটা বেশি ঘাস ছিল এবং নতুন বলে কিছু মুভমেন্টও পাওয়া গেছে। স্পিনের চেয়ে পেস বোলারদের জন্য উইকেট কিছুটা বেশি সহায়ক মনে হয়েছে।’
তবে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক, ‘আমরা বিষয়টি মাথায় রাখছি। তবে যে ধরনের উইকেটই হোক আমরা প্রস্তুত আছি।’
ঘাসের পরিমাণ কিছুটা কমলেও মিরপুরে আবারও ব্যাট ও বলের জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আজ। পরের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১৪ জুন একই মাঠে।
সময়ের আলো