বিশ্বকাপ সামনে রেখে সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। ইনজুরি থেকে দ্রুত সেরে উঠতে এবার তিনি ব্যবহার করছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুনর্বাসন পদ্ধতি, যা নাসার গবেষণা থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানা গেছে।
নেইমারের শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য সোমবার (৮ জুন) নতুন করে ইমেজিং পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে তার পরবর্তী রিহ্যাব ও অনুশীলন পরিকল্পনা।
এর আগে, শনিবার ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে ওই বিশেষ যন্ত্রে হালকা অনুশীলন করতে দেখা গেছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি ধীরে ধীরে তার চলাফেরা ও ফিটনেস ফিরিয়ে আনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান পায়ের কাফ ইনজুরি থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য নেইমার বর্তমানে একটি বিশেষ অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল ব্যবহার করছেন। এই প্রযুক্তি শরীরের ওপর কার্যকর চাপ কমিয়ে দিয়ে নিরাপদভাবে দৌড়ানোর সুযোগ তৈরি করে, ফলে ইনজুরিগ্রস্ত পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
এই ধরনের ট্রেডমিলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি ব্যবহারকারীর শরীরের ওজন আংশিকভাবে হ্রাস করে। ফলে হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় জয়েন্ট ও পেশিতে চাপ অনেক কম পড়ে। বিশ্বজুড়ে বহু পেশাদার ক্রীড়াবিদ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছেন পুনর্বাসনের জন্য।
ক্লাব পর্যায়েও ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ব্রাজিলের কয়েকটি ক্লাব ইতিমধ্যেই তাদের মেডিক্যাল ইউনিটে এই সিস্টেম যুক্ত করেছে বলে জানা গেছে।
মেডিক্যাল টিম অনুমতি দিলে তিনি প্রথমে হালকা শারীরিক অনুশীলনে ফিরবেন, এরপর ধাপে ধাপে বল নিয়ে অনুশীলন শুরু করতে পারবেন। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে তার শরীরের সাড়া দেওয়ার গতির ওপর।
ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমারের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস ঘিরে তাই বাড়ছে উদ্বেগ ও অপেক্ষা- সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেডিক্যাল রিপোর্ট।
এএডি/