ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু কিংবদন্তি রয়েছেন, যাদের সাফল্য শুধু ট্রফির সংখ্যায় মাপা যায় না। নিখুঁত ট্যাকল, অসাধারণ অবস্থানবোধ, অফসাইড ট্র্যাপের দক্ষ ব্যবহার এবং অনবদ্য নেতৃত্বের কারণে তারা সকলের থেকে ভিন্ন হয়ে রয়েছে। তাপদের মধ্যে ফ্রাঙ্কো বারেসি তাদেরই একজন। পুরো ক্যারিয়ার এক ক্লাবে কাটিয়ে তিনি আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বারেসি ব্যালন ডি'অরের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন ১৯৮৯ সালে। সে বছর ভোটাভুটিতে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। শীর্ষে ছিলেন তারই সতীর্থ মার্কো ফান বাস্তেন, আর তৃতীয় হন আরেক সতীর্থ ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ড। ফুটবল ইতিহাসে সেটি ছিল এক বিরল ঘটনা, যখন ব্যালন ডি'অরের প্রথম তিনটি স্থানই দখল করেছিল ইতালির ক্লাব এসি মিলানের খেলোয়াড়েরা।
তবে ভাগ্য সেদিন বারেসির হাতে আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি'অর তুলে দেয়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি পেয়েছেন এমন এক সম্মান, যা কোনো ভোটাভুটির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে বিদায়ী ম্যাচে এসি মিলানের তৎকালীন সভাপতি সিলভিও বেরলুস্কোনি বারেসিকে উপহার দেন একটি আসল ব্যালন ডি'অর ট্রফি। যে পুরস্কারটি তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জিততে পারেননি। সেটিই তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে। ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধিনায়কের প্রতি এটি ছিল এক অসাধারণ সম্মান।
বারেসির প্রতি এসি মিলানের শ্রদ্ধা অবশ্য এর আগেই প্রকাশ পেয়েছিল। তার বিখ্যাত ৬ নম্বর জার্সি চিরতরে অবসর ঘোষণা করে ক্লাবটি তাকে অমরত্বের স্বীকৃতি দেয়। আর বিদায়ী দিনে ব্যালন ডি'অরের প্রতীকী উপহার সেই সম্মানের ইতিহাসে যোগ করে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।
এখন সেই কিংবদন্তি আর নেই। সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার, এসি মিলান ও ইতালির ফুটবলের প্রতীক ফ্রাঙ্কো বারেসি ৬৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। গত বছর ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৩১ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তী ফুটবলার। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এসি মিলান। ক্লাবটি এক বার্তায় জানিয়েছে, বারেসির আদর্শ, নেতৃত্ব ও সততা চিরকাল তাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
ফ্রাঙ্কো বারেসি হয়ত আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি'অরের বিজয়ীদের তালিকায় নিজের নাম লেখাতে পারেননি। কিন্তু এসি মিলানের ইতিহাসে, সমর্থকদের হৃদয়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে তিনি এমন এক কিংবদন্তি, যার মর্যাদা যেকোনো ব্যক্তিগত পুরস্কারের সীমা অতিক্রম করেছে। তার উত্তরাধিকার প্রমাণ করে, কখনো কখনো ট্রফির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একজন ফুটবলারের অবদান, নেতৃত্ব এবং ভালোবাসা।
সময়ের আলো/টিকে/কেএইচও