ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০০

2026-06-09T12:50:56+00:00
2026-06-09T14:06:32+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম  আপডেট: ০৯.০৬.২০২৬ ২:০৬ পিএম  (ভিজিট : ২৩)
ফিলিপাইনের মালিতায় ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা। ছবিটি মাহায়াহায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিডিও থেকে নেওয়া। ছবি : আল-জাজিরা
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশটির মিন্দানাও দ্বীপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর জেনারেল সান্তোসে একটি ধসে পড়া বাণিজ্যিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান উদ্ধারকর্মীরা। ভবনটিতে একটি মুদি দোকান ছিল এবং সেখানে এখনো দুই ব্যক্তি আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। স্ক্যানিং যন্ত্র ব্যবহার করেও এখন পর্যন্ত ভেতরে জীবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ এক যুবকের মা দিয়োসলিনদা দেলুভিও বলেন, মা হিসেবে এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন যে আমার ছেলে এখনো সেখানে আটকে আছে। আমি শুধু চাই আজই তাকে উদ্ধার করা হোক, যাতে আমরা কিছুটা শান্তি পাই। 

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। কম্পন অনুভূত হয় ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও, যা কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর দুই ঘণ্টার মধ্যে একাধিক শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হানে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের পর কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়। 

প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার উপকূলীয় শহর জেনারেল সান্তোস সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। ভবন ধস ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সেখানে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

শহরটিতে দুর্যোগজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ এবং বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

অন্যদিকে সারাঙ্গানি প্রদেশে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বেশিরভাগই গ্লান শহরে পাহাড়ধসে বাড়িঘর চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাউথ কোটাবাতো, দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুত দ্বীপ থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সারাঙ্গানির কিছু এলাকা এখনো কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া আফটারশকের আশঙ্কা উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

আঞ্চলিক সিভিল ডিফেন্স প্রধান রদ্রিগো সোসমেনা বলেন, এখনো আফটারশক হচ্ছে। তাই উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জেনারেল সান্তোসের বাসিন্দারা ভূমিকম্পের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আমি আগে কখনো অনুভব করিনি। একটি ভবন আমার সামনে ধসে পড়তে দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। তখন শুধু আমার সন্তান ও ভাতিজির কথা মনে হচ্ছিল। 


জেনারেল সান্তোসের পূর্বে মালিতা শহরের একটি বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন দুই মাসের ছুটির পর প্রথম দিনের ক্লাস শুরু উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থী ও এক ডজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। ঠিক তখনই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোসাভেল কাচুয়েলা বলেন, স্কুলের প্রথম দিনের উচ্ছ্বাস মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়।

তিনি জানান, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী শান্তভাবে নিজেদের জায়গায় বসে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় দুই হাজার বাড়ি এবং ১১৭টি সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ছয় হাজার সরকারি বিদ্যালয় ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত ক্লাস চালু করা সম্ভব হবে না।

জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে অন্তত ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

রাজধানী ম্যানিলা থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি বার্নাবি লো বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় নিলে মৃতের সংখ্যা শতাধিক না হওয়াটা এক ধরনের অলৌকিক ঘটনা।

তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানো। বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাও পরীক্ষা করছেন, তবে কাজটি অত্যন্ত কঠিন।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র জানিয়েছেন, জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সরকার দ্রুত কাজ করছে এবং আমরা মিন্দানাওকে একা ছেড়ে দেব না।

গত আট মাসের মধ্যে এটি ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর আগে গত বছর সেবু উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হয়েছিলেন।


সূত্র : আল-জাজিরা 


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ফিলিপাইন  ভূমিকম্প  মৃত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: