লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েলে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই পাল্টা প্রতিরোধকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পারস্পরিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোমবার এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, হামাস এই সম্মিলিত সামরিক অবস্থানকে ‘জাতির সকল উপাদানের মধ্যে যে সংহতি থাকা উচিত, তার প্রকৃত রূপ’ হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি জানান, ইরান ও ইয়েমেনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হামাসকে বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে তারা গাজা উপত্যকাসহ সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসান চান।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থনের পাশাপাশি হামাসকে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। হামাস আশা করে যে এই ঐক্যবদ্ধ সমর্থন গাজা উপত্যকার যুদ্ধ বন্ধের আঞ্চলিক প্রচেষ্টাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে আরও শক্তিশালী হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা মূলত লেবাননে ইসরায়েলের বিরামহীন বিমান হামলার সূত্র ধরে তৈরি হয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের চলমান শান্তি আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের শর্ত আরোপ করে।
সম্প্রতি আমেরিকার মধ্যস্থতায় লেবানন কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের সঙ্গে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরান এই অনড় অবস্থানকে সমর্থন করলে লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তেহরানকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান।
এর মধ্যে ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলে তেহরান স্পষ্ট করে যে তারা চুপ থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলকে বৈরুতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক নানা আহ্বান ও হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে গত রোববার ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে তীব্র বোমাবর্ষণ করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে ওই রাতেই উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
এর জবাবে সোমবার সকালে ইসরায়েল পুনরায় ইরানের তেহরান, তাবরিজ ও ইসপাহান শহরে বিমান হামলা চালালে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ইরানও তৎক্ষণাৎ পাল্টা আঘাত হানে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি ও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই