প্রাইভেটকার চালককে পেটালেন বাউফল ছাত্রদল সভাপতি

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

পটুয়াখালীর বাউফলে যানজটে আটকে গিয়ে এক প্রাইভেট কার চালককে দফায় দফায় মারধর ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের

2026-06-09T23:59:33+00:00
2026-06-10T00:49:19+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সারাদেশ
প্রাইভেটকার চালককে পেটালেন বাউফল ছাত্রদল সভাপতি
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম  আপডেট: ১০.০৬.২০২৬ ১২:৪৯ এএম  (ভিজিট : ২০)
আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে যানজটে আটকে গিয়ে এক প্রাইভেট কার চালককে দফায় দফায় মারধর ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পৌর শহরের পলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাউফল-কালাইয়া সড়ক দিয়ে একটি কালো রঙের প্রাইভেট কার কালাইয়ার দিকে যাচ্ছিল। হাসপাতালের রোডের পলি ডায়াগনস্টিকের সামনে পৌঁছালে গাড়িটি যানজটে আটকে যায়। ওই গাড়ির ঠিক পেছনেই নিজের রয়েল এনফিল্ড ক্লাসিক মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে ছিলেন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ।

যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় ফাহাদ বারবার তার মোটরসাইকেল দিয়ে সামনের প্রাইভেট কারটিকে ধাক্কা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ফাহাদ পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রাইভেট কারের চালক দরজা খুলে ফাহাদের হাত ধরে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি স্ত্রীকে কিছুটা দূরে নামিয়ে দিয়ে এসে প্রাইভেট কারটি রাস্তার ওপর আটকে ধরেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাহাদের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রাইভেট কারের চালক মো. শাহীনকে মারধর শুরু করেন। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে পাশের একটি হোটেলে নিয়ে গেলে, ছাত্রদল সভাপতি ও তার লোকজন সেখানে গিয়েও তাকে পুনরায় মারধর করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন চালককে রক্ষা করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হন তারা। একপর্যায়ে চালক শাহীন মিয়ার কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য এক চালক দিয়ে গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে নেয় ছাত্রদল সভাপতির লোকজন।


বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গাড়ির মালিক ও কালাইয়া বন্দর হাটের ইজারাদার মো. রাজিব আহসান বাবু অভিযোগ করে বলে, প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে আমি কালাইয়া হাটের ইজারা নিয়েছি। ইজারা নেওয়ার পর থেকেই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে এই ঝামেলা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার চালককে বেধড়ক মারধর করে গাড়িতে থাকা প্রায় ৭৫ লাখ টাকাসহ গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ গাড়ির চাবি উদ্ধার করে দিলেও, গাড়িতে থাকা নগদ টাকা, ব্যাংকের চেকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনও পাওয়া যায়নি।

মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে কালাইয়া যাচ্ছিলাম। সৌদিয়া বিপণিবিতানের সামনে পৌঁছালে যানজটে পড়ি। সামনে একটি কালো রঙের গাড়ি থাকায় আমি যেতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে গাড়িটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চালক আমার হাত ধরে টান দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। আমি কারও গাড়িতে ধাক্কা দিইনি। বরং আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে আমার হাত ধরে টান দেওয়া হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   প্রাইভেট কার  ধাক্কা  চালক  পেটাল  বাউফল ছাত্রদল  সভাপতি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: