২১ বছর পর অজিদের বিপক্ষে জয়, ইতিহাস বাংলাদেশের

মেহেদী হাসান

খেলা

কার্ডিফের সেই বিকাল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আজও রূপকথার মতো। ২০০৫ সালের ১৮ জুন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে

2026-06-10T01:03:29+00:00
2026-06-10T01:03:29+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
খেলা
২১ বছর পর অজিদের বিপক্ষে জয়, ইতিহাস বাংলাদেশের
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০৩ এএম   (ভিজিট : ১১)
ছবি : সংগৃহীত
কার্ডিফের সেই বিকাল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আজও রূপকথার মতো। ২০০৫ সালের ১৮ জুন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়েছিল একদল তরুণ টাইগার।

সেই ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট উপহার দিয়েছিল অবিস্মরণীয় এক সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২১ বছর। বদলে গেছে সময়, বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরিচয়ও। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটি ওয়ানডে জয়ের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছিল না। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল মিরপুরে। নিজেদের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার ব্যাট, বল ও ফিল্ডিংয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ২০০৫ সালের কার্ডিফের পর এটাই অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়। এ জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়। এটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এক ক্রিকেট 

সংস্কৃতির প্রতিফলন। একসময় যে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ছিল অবিশ্বাস্য এক স্বপ্ন, আজ সেই দলকে নিজেদের মাঠে হারিয়ে বাংলাদেশ জানিয়ে দিল, তারা আর কোনো অঘটনের নাম নয়; তারা এখন বিশ্বক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তি।

কার্ডিফে ইতিহাসের নায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। মিরপুরে সেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২১ বছর আগে আশরাফুলের সেঞ্চুরি যেমন বাংলাদেশের জয়ের রচনা করেছিল, তেমনি এবার মোসাদ্দেকের অলরাউন্ড নৈপুণ্য হয়ে উঠল নতুন ইতিহাসের ভিত্তি।

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস। শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ১০ রানেই ফিরে যান সাইফ হাসান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত তৈরি করেন। 

আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে তানজিদ করেন ৫৪ রান। অন্য প্রান্তে শান্ত খেলেন ৮৮ বলে ৬৭ রানের পরিণত ইনিংস। দুজনের বিদায়ের পর বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা অনেকটাই নির্ভর করছিল মিডল অর্ডারের ওপর।

সেই মুহূর্তেই চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দেখালেন কেন তাকে আবারও বিবেচনায় আনা হয়েছিল। দীর্ঘ চার বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডার খেললেন ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। ইনিংসজুড়ে ছিল দায়িত্বশীলতা, ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা এবং শেষ দিকে প্রয়োজনীয় আক্রমণাত্মক মানসিকতা।

মোসাদ্দেকের ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে সংগ্রহ করে ২৮৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ওয়ানডে সংগ্রহ। 

তবে দিনের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। ব্যাট হাতে দলের নায়ক হওয়ার পর বল হাতেও সমান কার্যকর ছিলেন মোসাদ্দেক। ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এর সঙ্গে যোগ করেন একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ। ফলে তিন বিভাগেই নিজের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন নাহিদ রানা। নিজের গতি আর আগ্রাসনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে বারবার চাপে ফেলেছেন তরুণ এই পেসার। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতিতে বল করে অজিদের ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রেখেছেন পুরো ইনিংসজুড়ে। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কখনোই ম্যাচে ফিরতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

এর মধ্যে দিনের আরেক নায়ক হয়ে ওঠে মিরপুরের আকাশ। সারাদিনই আকাশ ছিল মেঘলা। থেমে থেমে বৃষ্টিও হয়েছে। তবু খেলা চলেছে। 

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৪ রান, তখন হঠাৎ বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিটে দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার খেলা বন্ধ করে দেন।

নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে খেলা স্থগিত রাখতে হয়। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকায় আর মাঠে ফেরা সম্ভব হয়নি দুই দলের। শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৮৬ রানের জয় পায়। 

এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। আগামী ম্যাচে জয় পেলেই ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে।

২০১১ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের চরিত্র। প্যাট কামিন্স, ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের মতো তারকাদের ছাড়া তুলনামূলক অনভিজ্ঞ দল নিয়ে ঢাকায় এসেছে অস্ট্রেলিয়া। 

তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় কখনোই সহজ নয়। আর সেই কারণেই এই জয় বাংলাদেশের জন্য এতটা তাৎপর্যপূর্ণ।

কার্ডিফে আশরাফুল যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, মিরপুরে মোসাদ্দেক-নাহিদরা সেই স্বপ্নের নতুন রং যোগ করলেন। ২১ বছরের অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটি জয় শুধু ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায়ই যোগ করেনি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসকেও পৌঁছে দিয়েছে নতুন এক উচ্চতায়।

/এসএকে


  বিষয়:   বছর  অজিদ  বিপক্ষে  জয়  ইতিহাস  বাংলাদেশ  অস্ট্রেলিয়া 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: