বিশ্বজুড়ে সংঘাতময় অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণের মধ্য দিয়ে বুধবার (১০ জুন) পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’। প্রতি বছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তবে এ বছর ওই দিন সরকারি ছুটি থাকায় দিবসটি ১০ জুন পালন করা হচ্ছে।
দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ টকশো ও তথ্যচিত্র প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশের অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস দীর্ঘ চার দশকের। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য এ পর্যন্ত বিশ্বের ২৫টি দেশের ২৭টি মিশনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্য রয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে মিশনগুলোতে বাংলাদেশি নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত অংশগ্রহণ শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটজন নারী সদস্যসহ মোট ৩৭ জন কর্মকর্তা ‘ইউএনপোল’ ও ‘ইউএন জব’-এ কর্মরত আছেন।
বিশ্বের চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন বীর সদস্য নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। জীবন বাজি রেখে হাইতির প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে আফ্রিকা ও ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে শান্তি ফেরাতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন তারা। যার ফলে স্থানীয় জনগণের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
শান্তিরক্ষা মিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই নতুন করে বাংলাদেশ পুলিশের আরও ৫২৫ জন সদস্য হাইতিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বা নীতিমালা মেনে বিশ্বের যে-কোনো প্রান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় বদ্ধপরিকর এবং আগামীতেও এই গৌরবময় অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জেডি