নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু-আহত হলে ১০ লাখ পর্যন্ত অনুদান দেবে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনে এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

2026-06-10T14:52:46+00:00
2026-06-10T14:52:46+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
জাতীয়
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু-আহত হলে ১০ লাখ পর্যন্ত অনুদান দেবে ইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:৫২ পিএম   (ভিজিট : ১৬)
নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনে এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বড় ধরনের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে তাদের এবং তাদের পরিবারকে এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

এই লক্ষ্যে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ‘আর্থিক সহায়তা ও অনুদান প্রদান নীতিমালা-২০২৬’ শিরোনামে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যার অধীনে ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান নিশ্চিত করা হবে। 

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই নীতিমালাটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই নীতিমালার আওতায় আর্থিক সুবিধার সুবিধাভোগী হবেন। 

দায়িত্ব পালনকালে যে-কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা, অঙ্গহানি বা চিকিৎসার ব্যয়বহুল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নির্বাচন কমিশন প্রতি অর্থবছরে তাদের নিজস্ব বাজেট থেকে এই কল্যাণমূলক অনুদানের অর্থ সংস্থান করবে।

নীতিমালা অনুযায়ী অনুদানের হারকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি দুর্বৃত্তদের হামলা অথবা কোনো দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার পরিবারকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। 

একই কারণে কেউ গুরুতর আহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা, গুরুতর আহত বা সাময়িকভাবে অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং সাধারণ আহতের ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। 

নীতিমালার দ্বিতীয় ভাগে দায়িত্ব পালনকালে আকস্মিক অসুস্থতা বা মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কেউ যদি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার পরিবার সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। 

এছাড়া আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতা বা স্থায়ী অক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা, হাসপাতালে ভর্তির পর ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা, সাধারণ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং সাময়িক অসুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এই নীতিমালার অধীনে অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পরিবারের উত্তরাধিকার নির্ধারণের জন্য অর্থ বিভাগের সর্বশেষ সরকারি কর্মচারী পেনশন সহজীকরণ আদেশ অনুসরণ করা হবে। যদি মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে তবে অনুদানের টাকা তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে এবং এক্ষেত্রে স্ত্রীদের যৌথভাবে আবেদন করতে হবে। 


তবে অনুদান পাওয়ার আগে স্বামী বা স্ত্রী পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে এই সুবিধা পাবেন না। মৃত ব্যক্তির কোনো স্বামী বা স্ত্রী জীবিত না থাকলে তার অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী ছেলে বা অবিবাহিত মেয়ে এবং সন্তান না থাকলে বাবা-মা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

নাবালক সন্তান থাকলে অভিভাবক নির্ধারণের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা ভাই-বোন এবং কোনো সন্তান না থাকলে স্বামী বা স্ত্রী অর্ধেক এবং বাকি অর্ধেক বাবা-মা বা অবিবাহিত ভাই-বোন সমহারে পাবেন। কোনো উপযুক্ত উত্তরাধিকারী না থাকলে বিবাহিত মেয়েরাও প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ আবেদন করতে পারবেন।

আর্থিক সহায়তার জন্য যে-কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা অফিস প্রধানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব বরাবর আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত আবেদন ফরম, আবেদনকারীর সত্যায়িত ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং সিভিল সার্জন বা সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রদত্ত চিকিৎসাজনিত বা মৃত্যুর সনদ সংযুক্ত করতে হবে।

এই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-১ উইংয়ের যুগ্মসচিবকে সভাপতি এবং বাজেট ও অর্থ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিবকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতি অর্থবছরে অন্তত দুইবার প্রাপ্ত আবেদনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। 

পরবর্তীতে এই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে এককালীন এই অনুদানের অর্থ সরাসরি হস্তান্তর করা হবে।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   নির্বাচনী দায়িত্ব  পালন  মৃত্যু-আহত  ১০ লাখ অনুদান  ইসি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: