স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরেশোরে প্রস্তুতি শুরু করলেও এখন সেখান থেকে পিছু হটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভা বাতিলের পর এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘোষিত সংলাপও স্থগিত করেছে কমিশন। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ধারাবাহিক এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নতুন আচরণবিধি জারি, বাজেট তৈরি, ভোটের সামগ্রী কেনাকাটা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকসহ বেশিরভাগ কাজ শেষ করেছিল ইসি।
গত ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। পরে সিইসি জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল এবং নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।
এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ৮০টি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে হওয়ার কথা ছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, আইনি জটিলতা নেই এমন নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং ৬৪ জেলায় একসঙ্গে নির্বাচন শুরুর চেষ্টা থাকবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ঘোষিত সময়সূচি ছিল প্রাথমিক। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। তবে বন্যার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে ক্ষতি ও পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এরপরই প্রস্তুতিতে ভাটা পড়ে। ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভা বাতিল করে ইসি। এবার ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘোষিত তিন দিনের সংলাপও স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার জানান, আপাতত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ স্থগিত রয়েছে। পরবর্তীতে নির্দেশনা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি