জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), সিসিটি ও জিসিবিসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না করার জোর দাবি জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৬ দফা সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে, তা জনগণের কাছে বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা আমলের জাতীয় স্বার্থবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা হিসেবেই প্রতীয়মান হবে।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত স্মারকলিপিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও বন্দর সুরক্ষায় ৬টি মূল দাবি উত্থাপন করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করা। ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে চলমান সব ধরনের আলোচনা ও প্রক্রিয়া বাতিল করা। বন্দর পরিচালনায় দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব ধরনের হয়রানিমূলক মামলা ও দমনমূলক কার্যক্রম প্রত্যাহার করা। চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদের সাথে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে তাদের মতামত ও উদ্বেগ সরাসরি শোনা। চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, যার মাধ্যমে দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলে এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী এস কে খোদা তোতন। অপর যুগ্ম সমন্বয়কারী ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি ও সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদ আলম, বিএফটিইউসি সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ, বিএলএফ সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো, হারুন ও তসলিম হোসেন সেলিম সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সময়ের আলো/জোই